প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভয়ে কথা বলছেন না মিন্নির বাবা

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : বরগুনায় বহুল আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলেও তার পক্ষে দাঁড়াননি কোনও আইনজীবী। সময় এখন.কম

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমার মেয়েকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতে আমার মেয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার নাসির ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদেরের দাঁড়ানোর কথা থাকলেও, কী কারণে দাঁড়াননি আমি বলতে পারবো না। তবে ধারণা করছি, প্রতিপক্ষের ভয়ে হয়তো কোনও আইনজীবী দাঁড়াননি।

কোন প্রতিপক্ষের কারণে আইনজীবীরা দাঁড়াননি- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন প্রতিপক্ষ সেটা আপনারাই বুঝে নেন। আমি বলতে গেলে তো বরগুনায় থাকতে পারবো না।

অবশ্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে, সে কারণেও হয়তো সকল কাগজপত্র প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, আমাকে মোজাম্মেল সাহেব তার মেয়ের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন, কিন্তু আমি দাঁড়াইনি।

কী কারণে দাঁড়াননি- এই প্রশ্ন করা হলে কোনও জবাব দেননি তিনি। চুপ করে থেকে পাশ কাটিয়ে চলে যান।

অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, হঠাৎ করে এসে আমাকে মিন্নির পক্ষে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। কিন্তু ওকালতনামায় স্বাক্ষর না থাকায় দাঁড়াতে পারিনি।

তবে, কোনও আইনজীবী তার পক্ষে দাঁড়াতে না পারলেও বিচারক মিন্নিকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন। মিন্নিই নিজের পক্ষে বক্তব্য পেশ করেন।

রিফাত হত্যা মামলায় এপর্যন্ত মিন্নিসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ক্রসফা-য়ারে নিহত হন। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের থামাতে পারেননি।

গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও ৫/৬ জনকে অ-জ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত