প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ওয়াহেদ ম্যানশনের সংস্কার বন্ধ করেছে রাজউক

সুজিৎ নন্দী : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সুপারিশ অনুসরণ না করায় ওয়াহেদ ম্যানশন সংস্কারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ভবনটি ব্যবহারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বুয়েটের পক্ষ থেকে ভবনের কলাম ও বিমে পর্যাপ্ত রড ব্যবহার করে মজবুত করার পাশাপাশি বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। মেরামতে সেসব শর্ত অনুসরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ভবনটির মেরামত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজউকের অথরাইজ বিভাগ সূত্রে এতথ্য জানা যায়।

রাজউকের আঞ্চলিক অফিস জানায়, মালিক এরই মধ্যে ভবনের নিচতলার দেয়ালগুলো মেরামত করেছেন। ভবনটির দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের দেয়ালে কিছু ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। নিচ তলার রুমগুলোকে দোকান ঘর হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পিলারগুলোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে নতুন করে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কোনও রড ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া আগের চেয়েও মোটা করা হয়নি বরং পোড়া প্রলেপ তুলে ফেলায় কলাম ও বিমগুলো আগের চেয়ে চিকন হয়ে পড়েছে।

অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ হোসেন বলেন, সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা যায় শ্রমিকরা নির্মাণ কাজ করছে। ভনটিতে আগুন লাগার পর যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা বলেছে, বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করে সেই সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এই অ্যাসেসমেন্ট করার পর বিষয়টি রাজউক ও সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে। কিন্তু ভবন মালিক তা করেননি। বুয়েটের সুপারিশ কোনোভাবেই মানছে না। পরে আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। নতুনভাবে লাগানো ইটগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে এ ভবন থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের তিন মাস পর গত মে’র মাঝামাঝি সময় থেকে ভবনটির মেরামত কাজ শুরু করে ভবন মালিক। তবে এতে বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ মানা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও করেছেন ভবনটির নিচতলায় দোকান ভাড়া নেওয়া ব্যবসায়ী ও স্থানীয় দোকানিরা।

ভবনটির বিষয়ে বুয়েট ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণ ও আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনের কলাম ও বিমের যেসব অংশে ক্ষতি হয়েছে বা পুড়ে গেছে, সেসব অংশ পুরোপুরি ফেলে দিতে হবে। এরপর নতুন করে রড ও কংক্রিটের ঢালাই করে মজবুত করতে হবে।

কিন্তু ভবনের মেরামত কাজে বিম ও কলামে কোনও ধরনের রড ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। কমরত নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, তারা ভবনে নতুন করে কোনও রডের ব্যবহার করছেন না। মালিক পক্ষ থেকে যেভাবেই নির্দেশনা রয়েছে ঠিক সেভাবেই কাজ করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত