প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে, বললেন মির্জা ফখরুল

শাহানুজ্জামান টিটু : অবিলম্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার যদি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার হারাবে এবং বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ঈদগা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবর রহমান সারোয়ার।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমরা হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছি, একটা রাজনৈতিক দলের সভাপতির মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটা সত্য যে, তার সরকারের আমলেই এদেশের গণতন্ত্রকে ধবংস করা হয়েছে। এটা সত্য যে, তার সরকারের আমলেই আমাদের বহু মানুষ, ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছে। জনগণের উত্থাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে আপোষ করে, তাদের সঙ্গে জোট করে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। আজকে তাকে(এরশাদ) রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ১৯৭১ সালে পাক সেনা বাহিনীর হাতে বন্দি থাকলেন তাকে আজকে কারাগারের অন্ধকারে অন্তরীণ করে রাখা হয়।

এই সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একটা বাজেট দিয়েছে ট্যাক্স, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, গ্যাসের দাম বাড়ানো। পেয়াজের দাম বাড়ছে, কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা, প্রত্যেকটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ছে।
সাধারণ মানুষের আয় বাড়ে না। কৃষকরা তার ধানের দাম পায় না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা দিন দিনে বাড়ানো হচ্ছে। কারণ তাদের ওপর ভর করে সরকার এদেশের জনগণের অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খবরের কাগজ খুললেই ধর্ষণ আর ধর্ষণ ছাড়া কোনো খবর নাই। হত্যা শুধু হত্যা আর হত্যা। আদালতও হত্যা থেকে বাদ যাচ্ছে না। মেগা প্রজেক্টের নামে, মেগা উন্নয়নের নামে তারা নিজেদের পকেট বোঝাই করছে। মানুষের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না।

তিনি বলেন. আমাদের অধিকার আমাদেরই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের অধিকার অন্য কেউ কী রক্ষা করে দেবে? আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন কী অন্য কেউ করবে? আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের ফিরিয়ে আনার আন্দোলন কী অন্য কেউ করবে? বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আন্দোলন কী অন্য কেউ করবে? আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আমার ভাগ্য আমি পরিবর্তন করবো অন্য কেউ পরিবর্তন করে দেবে না। এদেশের মানুষ বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন করবে। আপনারা চান আন্দোলন। আমরাও চাই আন্দোলন। কিন্তু আন্দোলনের ডাক দিয়ে যেন আমাদের ফিরে না আসতে হয়। গ্রামে গ্রামে যান। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুন। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমরা জয়ী হবো। জয় আমাদের সুনিশ্চিত।

সমাবশে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মিটিং মিছিল মানববন্ধন ও অনশন করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না।আমাদেরকে ঢাকায় যেতে হবে। আমরা যদি সারা দেশ থেকে ১ লক্ষ লোক ঢাকায় সমবেত করতে পারি তখন আমাদের সাথে ঢাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগ দেবে। ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অচিরেই মুক্তি পাবেন। একদিকে আমরা যারা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমরা আইনগতভাবে মামলা মোকাবেলা করছি আর একদিকে আন্দোলন-সংগ্রাম প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে হবে। এখন আপনারা যদি নিমজ্জিত থাকেন তাহলে বেগম জিয়ার মুক্তি হতে পারে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত