প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে হওয়া প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট দাতা ও গ্রহীতা ভালো আছেন, জানালেন জুলফিকার রহমান খান

ইয়াসমিন: বাংলাদেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট রোগী সিরাতুল ইসলাম শুভের (২০) অপারেশনের ২৫ দিন পর হলো বৃহস্পতিবার। এখন লিভারদাতা মা রোকসানা বেগম সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে হাসপাতাল থেকে আগেই ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। লিভার গ্রহীতা শুভও বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং আজকে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। তার প্রতিস্থাপিত লিভার কাজ শুরু করেছে, ব্লাড প্রেসার ও রেসপিরেশন নরমাল আছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান রোগী শুভ ও তার মা রোকসানা বেগম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ডা. জুলফিকার রহমান খান বলেন, সিরাতুল ইসলাম শুভ স্বাভাবিক মুখে আহার গ্রহণ করছেন। তিনি হাই ডোজের ইমিউনো সাপ্রেশন মেডিসিন পাচ্ছেন, সেহেতু তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কম। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গত ২৪ জুন বিএসএমএমইউ হাসপাতালে যুবক সিরাতুল ইসলাম শুভের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট অপারেশন করা হয়। তিনি লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। ২০১৭ সালে লিভার সিরোসিস ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যান। সেখানে বিশেযজ্ঞ চিকিৎসকরা তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার মতামত প্রদান করেন। তার মা ছেলেকে লিভার দানে সম্মত হন।

এরপর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে লিভার গ্রহীতার লিভার সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে লিভার দাতার লিভারের ডান অংশ সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই অপারেশন সম্পন্ন করতে মোট ১৬ ঘন্টা সময় লাগে।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাতা ও গ্রহীতার খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমানের নেতৃত্বে শল্য চিকিৎসক টিমে ছিলেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উদ্দিন এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নূর-ই-এলাহী।

রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন- ডা. ওমর সিদ্দিকী, ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান খান, ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান, ডা. রাসেল মাহমুদ,ডা. আব্দুল্লাহ মো. আবু আইউব আনসারি, ডা. সারওয়ার আহমেদ সোবহান, ডা. মো. নাজমুল হক, ডা. এস এম মোর্তজা আহসান, ডা. জাবিউল ইসলাম, ডা. মো. আবদুল কাইউম, ডা. মো. আরিফুজ্জামান, ডা. মো. আসাদুজ্জামান নূর, ডা. মোস্তফা মামুন ওয়ারিদ, ডা. এ কে আজাদ, ডা. সবিতা রানা, ডা. আজফার বিন আনিস এবং ডা. মো. ইমরান আলী।

জটিল অপারেশনের সময় রোগীকে অজ্ঞান করতে এ্যানেস্থেসিয়া, এ্যানালজেসিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে এ্যানেস্থেসিয়া টিমে ছিলেন অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই, ডা. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, ডা. মন্তোষ কুমার মন্ডল, ডা. সঞ্জয় কুমার সাহা, ডা. মো. মোস্তফা কামাল এবং রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. মো. আসিফ মাহমুদ, ডা. কল্যাণ দেবনাথ, ডা. সানাউল হক মাসুদ, ডা. শাহরিনা শারমিন, ডা. রকি দাসগুপ্ত, ডা. সুদীপ কুমার দাস এবং ডা. মো. কামরুল হাসান। অপারেশন চলাকালে ইমেজিং সংক্রান্ত কাজে ছিলেন রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এইচ মোস্তফা কামাল ও রেসিডেন্ট দীপক ভার্মা।

এই চিকিৎসক টিমকে সহায়তা করেন ভারতের প্রতিথযশা লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. পি বালা চন্দ্র মেননের চার সদস্যের টিম।
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত