প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষার্থীদের ডাকসু’র প্রতি আকর্ষণ হারাতে অকার্যকর করতে চাচ্ছে ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র সামাজ সেবা সম্পাদক আখতার হোসেন এর আয়োজনে  সপ্তাহব্যাপী ‘Awareness Campaign on Cyber Safety & 999’ প্রোগ্রামের প্রথম এবং দ্বিতীয় দিনের প্রোগ্রাম করতে পারেন নি তিনি। পূর্বে অনুমতি থাকলেও প্রোগ্রামের দিন হল প্রাধ্যক্ষ অনুমতি না দেয়ায় হয়নি এই প্রোগ্রাম। এদিকে ইতোমধ্যে প্রোগ্রামের নানা কার্যক্রমে জন্য ডাকসু থেকে ৪০ হাজারের মতো টাকা খরচ হয়ে গেছে।

১৬ জুলাই ছিল বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলে এবং আজ ১৭ জুলাই ছিল রোকেয়া হলে প্রোগ্রাম ছিল।  কেন প্রোগ্রাম হয়নি বা এর পিছনে কারা ছিল এ বিষয়ে জানাতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আখতার। আজ(১৭ জুলাই) রাতে ডাকসুর কনফারেন্স রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আখতারসহ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক সাগুফতা বুশরা মিশমা, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।

আখতার হোসেন বলেন, দুটি প্রোগ্রাম করতে না দেয়াতে আমি অন্তত মর্মাহত। হল সংসদ প্রোগ্রামগুলো করতে চাচ্ছে। কিন্তু কেন তাদের কে বাঁধা দেয়া হচ্ছে? কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের জিএস সাগুফতা বুশরা মিশমা আমাদের জানিয়েছেন ঐ হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন বলেছেন প্রোগ্রাম করতে দেয়া হবে না এবং অন্য কোথাও প্রোগ্রাম করতে দেয়া হবে। ডাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম।   ডাকসুকে অকার্যকর করার চক্রান্ত চলছে।   আখতার বলেন, কোনো নোংরা রাজনীতি ডাকসুর প্রোগ্রামকে ক্যান্সেল করতে পারবে না। ডাকসুকে স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি জানান, এই কর্মশালা আয়োজনে সবাইকে পূর্ব থেকে অবহিত করা ও জিএস থেকে সাইন নিয়ে বাজেট পাশ করানো হলেও শেষ মুহুর্তে এসে আমাকে প্রোগ্রাম করতে দেয়া হচ্ছে না। হল প্রশাসন থেকে আমাদের বলা হচ্ছে ডাকসুর সবার সাথে সমন্বয় করা না হলে প্রোগ্রাম করা যাবে না। আমি এর আগে প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা নিয়ে একটা সংবাদ সম্মেলন করি সেখানে এজিএসের সম্মতি ছিলো এবং তিনি এতে যোগ দিবেনও বলেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, এখন আমি যখন সব আয়োজন সম্পন্ন করেছি, হল সংসদ ও বিভিন্ন হল প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আমরা যেখানে অনেক পরিশ্রম করে সবকিছু গুছিয়ে এনেছি তখন কোন এক অদৃশ্য কারণে আমাকে প্রোগ্রামটি করতে দেয়া হচ্ছে না। এজিএস সাদ্দাম হোসেনকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে জানালেন, মেয়েদের হলে অনেক ব্পাোর আছে তাই ওখানে প্রোগ্রাম করা যাবে না

বাকি প্রোগ্রামগুলো হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এখনো প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করেনি। আমি চাই যে প্রোগ্রাম দুটি বাতিল হয়েছে সে দুটিও করতে।

এসময় ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্রলীগ ডাকসুকে অকার্যকর করতে চায়। তারা চান যে ডাকসু’র প্রতি যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো আকর্ষণ না থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি। ছাত্রলীগের চাওয়া পাওয়া ছাড়া কোনো কাজ তারা করতে পারেন না।   তিনি এইসময় নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে তাদের উপর হামলার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের উপর হামলার এক সপ্তাহের ভিতর বিচার করার কথা ছিল।  কিন্তু আজ তিন মাস হলেও তা হয়নি।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের জিএস ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। বারবার বললেও  আমরা এখন পর্যন্ত ডাকসুতে ডাকসুর সভাপতি ছাড়া এখন পর্যন্ত ডাকসুর হোল বডি  একবার বসতে পারিনি।

বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের জিএস সাগুফতা বুশরা মিশমা বলেন, আমরা প্রোগ্রামটি করার জন্য সকল কাজ গুছিয়ে রাখলেও আমাদের হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি না বলায় আমাদের হলের প্রোগ্রামটি আমাদের প্রাধ্যক্ষ ম্যাম করতে নিষেধ করতে নিষেধ করে দেন। প্রোগ্রামটি না হওয়া আখতারের জন্য যে রকম লজ্জার আমার জন্যও লজ্জার। কেননা আমি হলের আপুদের সবাইকে আগেরদিন বলেছি সাইবার সচেতনতা বিষয়ে একটি প্রোগ্রাম হবে।

শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় সক্রিয় থাকায় আমার উপর বারবার সাইবার আক্রমণ করা হয়েছে।নির্দিষ্ট একটি দলের আইডিগুলো থেকে আমাকে এই আক্রমণ করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত