প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কবি এবং কবি আল মাহমুদ

আহসান হাবিব :ধর্মীয় বিষয়-আশয় নিয়ে কেউ কবিতা লিখলে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। অজ¯্র কবি লিখেছেন, বাংলা সাহিত্যে এর উদাহরণ ভুরি ভুরি। তবে এসব কবিতা যেহেতু বিশেষ সম্প্রদায়ের, কোনো সর্বজনীনতা থাকে না, ফলে কবি সব ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কাছে সমাদৃত হন না। ধর্মের প্রধান কাজ মানুষকে বিভক্ত করে ফেলা। আর কবির কাজ মিলিয়ে দেয়া। তাই ধর্ম এবং কবি একটি সাংঘর্ষিক সম্পর্ক। এতেও কোনো আপত্তি নেই, যে কেউ লিখতে পারেন।
আপত্তি কখন? যখন তিনি সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেন, যখন তিনি নিজ ধর্মকে অন্য ধর্মের চেয়ে সেরা ভাবেন এবং আক্রমণ করেন। এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় দেশবিরোধী কর্মকা- এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা, তাহলে তার কবিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে। এটা দিবালকের মতো স্পষ্ট যে, মুক্তিযুদ্ধ এমন একটি ঐতিহাসিক মানদ- যা ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে। একদিকে স্বাধীনতাবিরোধী, অন্যদিকে এর পক্ষে। এখন যদি কোনো কবি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কবিতা লেখার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মেলান, তাহলে সেই কবি শুধু পরিতাজ্য নয়, ঘৃণিত। অনেক প্রগতিশীল মানুষ আছেন যারা ওই ধরনের কবিকে তার কবিতার জন্য রাজনৈতিক ভূমিকা অস্বীকার করতে চান, তাদের কাছে কবিতাই প্রধান। এরা আসলে মনে মনে স্বাধীনতাবিরোধী। তাদের এই সমর্থনকে জায়েজ করার জন্য অন্য কবিদের ব্যক্তিগত চরিত্র হাজির করেন।
কে কার সঙ্গে লাম্পট্য করেছে এসব। এদের চিন্তা শিশুতোষ এবং সুযোগসন্ধানীমূলক। আবার কেউ কেউ সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ বা দালালীর প্রশ্নও উত্থাপন করেন। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকারদের সঙ্গে একই পাল্লায় মাপতে থাকেন। অথচ এই দুয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। এরা ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক চরিত্রকে আলাদা করতে জানে না। সরকারি দালাল কবি কিংবা লেখক শিল্পীকেও আমরা তাদের ভূমিকার জন্য যথাযথ সমালোচনা করবো। তাদেরও কোনো কোনো কাজ ঘৃণা পাওয়ার দাবি রাখে। প্রকৃত প্রস্তাবে একজন কবি যদি সত্য এবং সুন্দরের রূপকার হন, তাহলে তার রাজনৈতিক ভূমিকা অবশ্যই দেশ জাতির ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে। নড়ে গেলে, ইতিহাসে তার স্থানও হবে উপযুক্ত স্থানে। তখন তার ভালো কবিতাও ভাগাড়ে গন্ধ ছড়াবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত