প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মিন অং লেইংসহ ৪ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

রাশিদ রিয়াজ : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের জন্যে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান সহ শীর্ষ চার সামরিক কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মিন অং লেইং, তার ডেপুটি সো উইন ও অন্য দুই সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের ওপর এ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর জাতিগত নিধন চালানোর পরও এজন্যে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এখনো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এবং এজেন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দায়ী। এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন মাইক পম্পেও।বিবৃতিতে মাইক পম্পেও এও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারই প্রথম প্রকাশ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই চার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল। এর ফলে ওই চার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা তাদের পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারবেন না।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশে^ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর জাতিগত নিধন বন্ধ করার জন্যে চাপ সৃষ্টি করা হলেও কার্যত কোনো সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি দেশটির সরকার। বাংলাদেশে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমানদের এখনো ফিরিয়ে নিচ্ছে না মিয়ানমার। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ, তাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া ছাড়াও তাদের নির্বিচারে হত্যা করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারও আগে একই ধরনের নির্যাতনের ফলে ২০০৮ সালে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘ ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর এধরনের নির্যাতনকে জাতিগত নিধন বলেছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ছাড়াও উগ্র বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুসারীরা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও তাদের বাড়ি ঘর লুটপাটসহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডার বলছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমপক্ষে ৯ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশুরা রেহাই পায়নি। গ্লোবাল হিউমানিটারিয়ান গ্রুপ বলছে নিহতদের মধ্যে ৭৩০ জন শিশু রয়েছে যাদের বয়স ৫ বছরের কম।

রোহিঙ্গাদের নিধনযজ্ঞের মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিপুল অস্ত্র কিনতে ব্যয় করছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও ইসরাইল, ভারত, চীন, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের কাছে ব্যাপক পরিমানে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। ডেইলি সাবা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত