প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বড়দের অস্ত্র যখন শিশুর খেলনা, বিক্রি বন্ধে আইনি বাধা রাখার পরামর্শ

ইয়াসমিন : শাকিল (৫) ও সাইফ (৪) দুই ভাই। শাকিল তার হাতের পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। সাইফ বুকে হাত দিয়ে মেঝেতে পড়ে যাচ্ছে। আর আহ্ শব্দ করছে। যেন ভাইয়ের ছোঁড়া গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে এই দুইভায়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর। শুধু এই দুই ভাই নয়, এখন দেশের ছোট শিশুরা বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র দিয়ে খেলছে। শিশুর খেলনা এবং ভিডিও গেমসে ঢুকে গেছে ভায়োলেন্স। যা, তাকে মনস্তাত্বিকভাবে সন্ত্রাসী মনোভাব তৈরি করবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, যেসব খেলনা শিশুর মধ্যে সহিংসতার মনোভাব তৈরি করে সেগুলো বিক্রিতে অবশ্যই আইনী বাধা থাকা দরকার।

সঞ্চিতা নিজাম একজন চাকরিজীবী মা। তিনি বলেন, আমি কখনোই চাইনা আমার সন্তানরা পিস্তল বা কোন ধরণের যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলুক কিন্তু দেখা যায়, অন্য আত্মীয় স্বজনরা তাদের এগুলো কিনে দিচ্ছে। কিন্তু আমি শিশুর হাতে অস্ত্র দেবার পুরো বিপক্ষে। একই কথা বলেন, দীপ্ত(৮) র মা। তিনি বলেন, আমি নিজে কখনোই ছেলেকে কোন খেলনা পিস্তল, স্টেনগান বা কিছু কিনে দেই না। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা তো কিনে দেয়। আর এই খেলনাগুলো তো অনেকটা বড়দের অরিজিনাল অস্ত্রের মতোই।
ক্রাইম রিপোর্টার সাংবাদিক সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার দুই মেয়ে। মেয়েদের জন্য বাজারে খেলনা কিনতে গিয়ে দেখেছি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য যেসব অস্ত্র আছে, বা বিশ্বের বাজারে যেসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয় তার প্রত্যেকটার ডামি শিশুর খেলনা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। প্রথমে আমি বিষয়টি দেখে খুবই অবাক হয়েছি। পরে বাস্তবতা বলে মেনে নিয়েছি। তবে, আমি মেয়েদের কখনোই অস্ত্র নিয়ে খেলতে দেই না।

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইং বলছে, শিশুদের খেলনা হিসেবে অস্ত্র ব্যবহারে আইনী কোন বাধা নেই।
একজন বাবা বলেন, আমি আমার ছোট ছেলেকে নিয়ে নিউমার্কেটে গেছি খেলনা কিনতে। দোকানদার নিজেই ছেলের জন্য একটা অস্ত্র নিয়ে এসে দেখাচ্ছে। আমি তখন দোকানদারকে বললাম যে আমি এটা কিনে দেব না। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলায় বেশি ভায়োলেন্স দেখেছে তারা প্রত্যেকে বড় হয়ে ভায়োলেন্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সেই কারণে বলা হয় যে, শিশু যদি প্রত্যক্ষ করে যে ভায়োলেন্স হচ্ছে তাহলে তার ভিতরে ভায়োলেন্স করার প্রবৃত্তি তৈরি হয়। এখন আমরা যদি শিশুকে পিস্তল দেই, শিশুরা কল্পনাপ্রবণ হয় খুব, তার হাতে যে জিনিসটা থাকে সে সেটার বাস্তবে প্রয়োগ করতে যায়। সে পিস্তল হাতে পেলে সেটা দিয়ে প্র্যাকটিস করছে। সেগুলি করছে, একটা ছোট ছেলে তার পিস্তল পাবার পর তার দাদাকে এমনভাবে খেলনা পিস্তল দিয়ে গুলি করেছে যে সেই গুলিতে দাদা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এই ঘটনাটি পত্রিকার খবরে প্রকাশিত হয়েছে। তার মানে দেখা যাচ্ছে, শিশুরা পিস্তল দিয়ে প্র্যাকটিস করে এবং আশেপাশের মানুষের উপর এটার প্রয়োগ করে। তাই অবশ্যই সন্তানকে এই ধরণের খেলনা থেকে শিশুদেরকে দূরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, মা-বাবারা যেন সচেতন হয় সেটি তো গুরুত্বপূর্ণ পাশাপাশি সন্তানরা যেন এই ধরণের খেলনা অস্ত্র দিয়ে আক্রমণাত্মক কিছু না করতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও তাদের সচেতন থাকতে হবে। সরকারিভাবে শিশুর জন্য খেলনা অস্ত্র নিষিদ্ধ করাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিশুর জন্য খেলনা অস্ত্র বিক্রিতে আইনের কোন বাধা নেই। তাই, আমাদের বিষয়টি আইনের আওতায় আনা দরকার।

আইনজীবী দীপ্তি শিকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, শিশুদের জন্য প্লাস্টিকের খেলনা থেকে শুরু করে সবধরণের খেলনাতেই বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র পাওয়া যায়। এমন ধরণের খেলনা অস্ত্র আছে যেগুলোর শব্দ এমন যেন মনে হয় এগুলো সত্যিই অস্ত্র। শিশুদের গেমগুলোতেও অনেক ধরণের ভায়োলেন্স দেখানো হচ্ছে। মা-বাবা কতক্ষণ শিশুদের দেখে রাখবে? শিশুরা যখন

সামাজিকীকরণের মাধ্যমে স্কুলে যায়। তখন তারা অন্য শিশুদের সঙ্গে মিশছে। তখন এগুলো তাদের মধ্যে চলে আসছে। শুধু খেলনা পিস্তল নয়, বিভিন্ন ভিডিও গেমসহ অনেক ফ্যাক্টর জড়িয়ে আছে। শিশুরা এখন গেমস দেখেও একে অন্যকে বিভিন্নভাবে আক্রমণ করা শিখছে। এগুলোও এখন তাদের খেলার অংশ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, শিশুরা কি ধরণের খেলনা নিয়ে খেলবে বা তারা কি ধরণের গেমস দেখবে এগুলোর ব্যাপারে সরাসরি কোন আইন না হলেও কিছু রেসট্রিকশন থাকা খুবই জরুরি। একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও বলব, তারা যেন সন্তানদের ব্যাপারে সচেতন হয়।
সম্পাদনা: সুতীর্থ বড়াল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত