প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভাব ফিরলেও বাংলাদেশের রপ্তানী আয়ে প্রভাব পড়বে না, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

স্বপ্না চক্রাবর্তী : চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদম্যান বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ হয়ে দুই দেশের মধ্যে ভাব হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রপ্তানীতে কোনো প্রভাবই পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী। তিনি বলেন, আমাদের রপ্তানী কোনো বাণিজ্যযুদ্ধের সুবিধা নিয়ে বাড়ছে না। আমাদের পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির কারণেই দিন দিন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থা দিন দিন আরও বাড়বে বই কমার কোনো কারণ নেই। এক্ষেত্রে নতুন নতুন রপ্তানী বাজার খোঁজার পাশাপাশি রপ্তানীযোগ্য পণ্যের বহুমুখীকরণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই দেশে উৎপাদিত অতিরিক্ত আলু বিক্রির জন্য জাপানসহ কয়েকটি দেশের সাথে কথা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের দেশভিত্তিক বিশ্লেষণ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সাংবাদিকরা হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য বাজারের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর কারসাজি বন্ধে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য বিভিন্ন উৎসবকে বেছে নেয়। আগামী কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে তারা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে, আমরা বাজার মনিটরিং করছি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা জাতীয় রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে পেরেছি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট রফতানি (পণ্য ও সেবা খাত) আয়ের পরিমাণ ছিল ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর আমরা আয় করেছি ৪৬.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রফতানি প্রবৃদ্ধির এ হার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫.৩৯ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হচ্ছে কৃষিজ পণ্য রফতানি খাতে রফতানির মোট পরিমাণ ৯০৮.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। এই খাতে মোট রফতানির পরিমাণ ১.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হলেও ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য, বিশেষায়িত টেক্সটাইল, আসবাবপত্র ইত্যাদি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রফতানি হয়েছে ৬.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১৪.৯২ শতাংশ বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানির পরিমাণ ২২.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধির হার ৭.১৩ শতাংশ। ভারতে রফতানির পরিমাণ ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধির হার ৪২.৯২ শতাংশ। চীনে রফতানির পরিমাণ ৮৮.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধির হার ৪৫.৪৪ শতাংশ। এছাড়া রাশিয়ায় রফতানির পরিমাণ ৫৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধির হার ১২.৯৯ শতাংশ।

রপ্তানী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রফতানি বাণিজ্যকে সহজীকরণ ও রফতানিকারকগণকে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে একাগ্র চিত্তে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ট্রেডিশনাল বাজারগুলোর বাইরে নতুন নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। রাশিয়ার ১৮ কোটি মানুষের বাজারটি ধরা আমাদের কাছে এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। শুধু তাই নয় আমরা জাপানের মতো দেশের বাজারটিও ধরতে সক্ষম হয়েছি। তাই আমাদের এই রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত