প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন ডেমু ট্রেন কেনার প্রকল্প বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী
একনেকে ৫ হাজার ১৪২ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

স্বপ্না চক্রবর্তী: ৪৫১ কোটি ৭১ লাখ ৩৭ হাজার টাকার নতুন ডেমু ট্রেন কেনার প্রকল্প বাতিল ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানী ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের মধ্যে চলাচলকারী ছয় সেট (৬ ইউনিটে ১ সেট) শাটল ট্রেন কেনার প্রকল্পটি বাদ দিয়ে অন্য ট্রেন কেনার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হলিডে মোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাসস্ট্যান্ড) প্রধান সড়ক সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ প্রকল্প’সহ মোট ৫ হাজার ১৪২ কোটি টাকা ব্যায়ের ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সিদ্ধান্ত দেন তিনি। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেমু ট্রেন বাংলাদেশের উপযোগী নয়। তাই নতুন করে আর ডেমু কেনা যাবে না। যেগুলো আছে, সেগুলো মেরামত করতে হবে।

নূরুল আমিন জানান, এর আগে ৪২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডিজেল ইলেক্ট্রিক মাল্টিপল ইউনিট বা ডেমু ট্রেন কিনে বিপাকে পড়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়।প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে চীনের তৈরি এ বিশেষ ট্রেনে। ডেমু ট্রেনগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেরই মেরামত প্রয়োজন। অথচ, বাংলাদেশ রেলওয়ের কারখানাগুলোর মধ্যে কোনো ইউনিটেই ডেমু ট্রেন মেরামতের মতো অবকাঠামো নেই। এ কারণে, ওইসব ডেমু মেরামতে ৩০৮ কোটি ২২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কারখানা ও ওয়ার্কশপ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নূরুল আমিন জানান, ২০১১ সালে ওই ২০ সেট ডেমু কেনার চুক্তি হয় চীনের তাংশান রেলওয়ে ভেহিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে। এর সঙ্গে শুল্ক, কর, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, বিদেশ ভ্রমণ ও ভাতা সংযুক্ত করে সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫৪ কোটি টাকা।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ‘চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন’ প্রকল্পে ৬২ কোটি টাকা, ‘বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পে ৩৪৫ কোটি টাকা, ‘ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পে ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পে ৫৬০ কোটি টাকা, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ’ প্রকল্পে ৭৩ কোটি টাকা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পে ১ হাজার ১২ কোটি টাকা এবং ব্যয় ধরা হয়েছে।

সড়ক নির্মাণের প্রকল্পগুলো অনুমোদনের সময় এক্ষেত্রে যথাযথ মান নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া অনুমোদন পেয়েছে ২২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পাবর্ত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প ২য় পর্যায়’ প্রকল্প। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি হাতির পথ রুদ্ধ করা যাবে না। বরং, হাতির খাবারের জন্য পথে ও বনে কলাগাছসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগাতে হবে, যেন এসব পথে এসে খাবার খেয়ে হাতি নিজেদের জায়গায় চলে যেতে পারে।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত