প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্যা মোকাবেলায় ডিসিদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর

আনিস তপন : বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কা করে ডিসিদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। এসময় তিনি বলেন বন্যার কারণে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও তারা যাতে সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখতে বলেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রথম কার্য অধিবেশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আবহাওয়াবিদদের মতে আরো বৃষ্টি হতে পারে। যদি চীন, নেপাল, ভারতে আরো বৃষ্টিপাত হয় এবং সেখানে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র, যমুনার পানি যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে আমাদের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বন্যার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠ কর্মীদের নির্দশনা দেয়া আছে যাতে পরিস্থিতির অবনতি হলে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসহ সবকিছুই নিশ্চিত করা হবে বলেও এসময় জানান প্রতিমন্ত্রী।

বন্যায় এখন পর্যন্ত ২০ জেলা আক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, প্রথমে ১০টি জেলায় বন্যা ছিল। দুইদিন পরে পনেরটি হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত ২০টটি জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। প্রত্যেক কমিটিকে দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তিনি আরো জানান, বন্যা কবলিত জেলাগুলো এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও প্রতি জেলায় চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে। আর প্রথমে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তারপর আরো ৩৭ লাখ টাকা গতকাল বরাদ্দ হয়েছে। শিশুখাদ্যের জন্য এক লাখ টাকা ও গো-খাদ্যের জন্য এক লাখ টাকা বরে প্রতি জেলায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতি জেলায় ৫০০ করে তাবু পাঠানো হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় ঘরের কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রথম ধাপে ১১ হাজার ৬০৪টি ঘর নির্মাণ শুরু করেছি। তাদের পরামর্শ ঘরের আয়তন আরো বিস্তৃত করা ও বাজেট বৃদ্ধি। আমরা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘরের বাজেট দিয়েছিলাম ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, কিন্তু এবার আমরা তিনলাখ টাকা বাজেট দিয়েছি। চলতি অর্থবছরে আরো ২৩ হাজার ঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যু নিরোধের জন্য বজ্রপাত নিরোধক টাওয়ার বসানোর প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। এছাড়াও দুর্যোগ ও বন্যার কাজের জন্য মটর বোটের সংখ্যা বাড়ানোসহ সারা বছর এসব মোটর বোটের জ্বালানী নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যাতে বন্যা কবলিত জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে পারে। আগে আমরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে প্রতি জেলায় এক লাখ টাকা বরাদ্দ করলেও এবার ডিসিদের প্রস্তাব মতে তা তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে।সম্পাদনা : মুসবা তিন্নি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত