প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কে হচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান?

ইউসুফ বাচ্চু : এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দল জাতীয় পার্টি সবসময়ই রাজনীতিতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে পরিচিতি পেলেও দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হওয়ার পর কি দল থাকবে, নাকি ভাঙনের মুখে পড়বে এটাই ভাবছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। অবশ্য দলের নিয়ম অনুযায়ী চেয়াম্যানের মৃত্যুতে জিএম কাদের চেয়াম্যান।

এরশাদ বেঁচে থাকতে তিনিই দলের সব সিদ্ধান্ত নিতেন এবং বাস্তবায়ন করতেন। সামনে আসছে দলটির নেতৃত্বের প্রশ্ন। নেতাকর্মীরাই উত্তর খুঁজছেন এ প্রশ্নের-কে হচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান?

যদিও এরশাদ জীবদ্দশায় তার উত্তরাধিকার ঠিক করে গেছেন তার আপন ছোট ভাই জিএম কাদেরকে কিন্তু পার্টির তৃতীয় সারির কিছু নেতাকর্মী তাকে সমর্থন করলেও দ্বিতীয় এবং প্রথম সারির নেতারা রওশান এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে চায়।

দলের চেয়ারম্যান পদে কে আসলে পার্টি এরশাদের শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে পারবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডিয়াম সদস্য ফয়সল চিশতি বলেন, সর্বপ্রথম আমি মনেকরি ম্যাডামেরই দায়িত্ব পাওয়া উচিত। ম্যাডাম রওশন এরশাদ এর আগের সংসদে বিরোধী দলের প্রধান ছিলেন এবং সংসদে শান্তির আবহাওয়া তৈরি করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বর্তমানে ও তিনি রিরোধী দলের সংসদ উপনেতার দায়িত্ব পালন করছে খুবই দক্ষভাবে। আমি মনে করি তিনি যদি দলের হাল ধরেন তাহলে এরশাদ স্যারের নীতি আদর্শ বেঁচে থাকবে।

দলের কর্তৃত্ব নিয়ে এরশাদ বেঁচে থাকতেই এ দু’জনের বিরোধ ছিল অনেকটা প্রকাশ্য।

নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রশ্নে শেষবেলায় এরশাদ নিজেই নাটকীয় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিশেষ করে এই স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত গুলো দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে।

নির্বাচনের চলাকালে মধ্যে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।

নিজে চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাওয়ার আগে ১ জানুয়ারি প্রথম জাতীয় পার্টিতে নিজের ‘উত্তরসূরী’ হিসেবে ছোট ভাই কাদেরের নাম ঘোষণা করেন এরশাদ। সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা পদেও সামনে আনা হয় তাকে। এরপর এরশাদের অনুপস্থিতিতে জিএম কাদের দল চালানোর দায়িত্বভার গ্রহণ করলে পার্টির মধ্যে তৈরি হয় অস্থিরতা। এজন্য রওশনপন্থি’দের দিকে আঙুল তোলেন কাদেরপন্থি’রা। এরশাদ চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর ২২ মার্চ জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন। পরের দিন সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও কাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সংসদের উপনেতা করা হয় রওশনকে। তখনও খবর ছড়ায়, রওশনের চাপেই ছোট ভাই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদ দিয়েও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে প্রশ্নে নাম আসছে জিএম কাদের ও রওশনের। যদিও দলের দায়িত্বশীল নেতারা সামনের কাউন্সিলের কথাও বলছেন।

জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান কে হবে জানতে চাইলে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, স্যার (এরশাদ) তো জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী কাউন্সিলে যদি একাধিক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব আসে, তাহলে তখন পরিস্থিতিই বলে দেবে, কে হবেন পার্টির চেয়ারম্যান।

এ বিষয় জাতীয় পার্টির অপর এক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, জিএম কাদেও যেভাবে অযোগ্য লোকদেও পদ্দোনতি দিয়ে দলের সামনে সারিতে এনেছেন তাতে আমি তাকে দলের চেয়াম্যান হিসেবে ভাবতে পারি না। এমকি তিনি গঠনতন্ত্রও লঙ্ঘন করেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত