প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন, দুর্ভোগে ৪৬ হাজার মানুষ

সাদিকুর রহমান সামু, মৌলভীবাজার: টানা বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু,কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে এবং পানি উপচে বাঁধের ভেতরে প্রবেশ করায় সদর উপজেলাসহ, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে।

প্রবল স্রোতে বানের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুর ও ফিসারীর কয়েক লাখ মাছ। পানি ঢুকেছে প্রায় ৩০টি প্রাইমারি ও ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১৭৪ হেক্টর আউশ ধান ও ৫৯ হেক্টর আউশের বীজতলা। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে দেয়া হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাত ১ টায় মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ও চাঁদনীঘাট পয়েন্টে ৯৫ সেন্টিমিটার, ধলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার ও কুশিয়ারা নদীর পানি মৌলভীবাজার অংশে শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা যায়,গত রোববার কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এর আগে কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা এলাকায় এবং আমদপুর ইউনিয়নের ঘোরামারা এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। সেই ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে রামপাশা, হকতিয়ারখোলা, ঘোরামারাসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাপী, জগন্নাথপুর, জগনশালাসহ কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে ।

এদিকে কুশিয়ার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছেন।
শ্রীমঙ্গলে বিলাসপার এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ছড়ার পানিতে ৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে, রাজনগরের ফতেহপুর, উত্তরভাগ ও কামারচাক ইউনিয়নে কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানিতে আকস্মিক বন্যায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে বন্যার পানিতে জেলার ৪৬ হাজার পানিবন্দী মানুষের মাঝে ৩৬ টন চাল ও এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সদর উপজেলার শেরপুরে খোলা হয়েছে দুটি আশ্রয় কেন্দ্র। আলাপকালে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শঙকর চক্রবর্তী বলেন,পানি নামার পরই সবকটি ভাঙন স্থান মেরামত করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত