প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খোলা আকাশের নিচে লাখ লাখ বানভাসি মানুষ

মাজহারুল ইসলাম : টানা বৃষ্টি ও ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে উঁচু বাঁধের ওপরে খোলা আকাশের নিচে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির অপ্রতুলতা, গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি ত্রাণ স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় কিছু কিছু এলাকায় পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ দুর্গত এলাকাতেই পৌঁছায়নি ত্রাণসামগ্রী। খোলা আকাশের নিচে দূর্বিসহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বন্যা কবলিত মানুষ। ইত্তেফাক

দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে। সোমবার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, কোন কোন স্থানে বৃষ্টিপাতের মাত্রা খানিক কমলেও ২/৩ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যার মাত্রাও বাড়তে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, সুরমা কুশিয়ারা ছাড়া দেশের ২৬টি পয়েন্টে প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি বাড়তে পারে। আর মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে। গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়ে সোমবার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানির তোড়ে আরো ৩টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। এতে ৩১টি গ্রামের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জেলার গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের আড়াই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রাম জেলায় ৩শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল।

জামালপুরে ৭টি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার পরিবারের ২ লাখের বেশি মানুষ। তলিয়ে গেছে ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে বন্যায় ৪০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। বন্ধ হয়ে গেছে ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, বারহাট্টা, পূর্বধলা ও কলমাকান্দার ২০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রধান সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে আছে। সে কারণে ৭দিনেও চালু হয়নি বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ। বৃষ্টি বন্ধ হলেও সাঙ্গু নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটের ৭টি ও সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার ৫ লাখ লোক পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে ৫ হাজার ৫৮৭ হেক্টর জমির ফসল। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলা প্লাবিত হয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে সব উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
বন্যা কবলিত এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ পানিবাহিত নানা ধরনের রোগ ছড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত