প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমপিচের দাবির প্রেক্ষিতে চার নারী কংগ্রেসওমেনকে পাল্টা ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানালেন ট্রাম্প

রাশিদ রিয়াজ : যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্রেট দলের চার নারী কংগ্রেস সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বাকযুদ্ধ অব্যাহত রেখেছেন। ট্রাম্পের এধরনের বক্তব্য কে চরম বর্ণবাদি ও অগ্রহণযোগ্য বলে সমালোচনার ঝড় উঠলেও পাল্টা তিনি ওই চার কংগ্রেসওমেনকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্প তার বক্তব্য বর্ণবাদি বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা অস্বীকার করেছেন। তিনি তার বক্তব্যে অটল থেকে ওই চার কংগ্রেসওমেনকে ক্ষমা চাওয়ার আহাবন জানিয়েছেন।

টুইটারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চার কংগ্রেসওমেন ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব, আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ ও আয়ানা প্রেসলে’কে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করার পর এ নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়। ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ওই চার নারী এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের কোনঠাসা ও মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। এদের মধ্যে দুই জন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করার আহবান জানান। যুক্তরাষ্ট্রে জনগণকে আহবান জানিয়ে তারা বলেন, ট্রাম্পের কথায় কান না দিয়ে বরং তার নীতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সবার দৃষ্টি নিবন্ধ থাকা উচিত সরকারের নীতির দিকে, প্রেসিডেন্টের কথার দিকে নয়।

এদিকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবার জন্যে যে দুই জন লড়ছেন সেই বরিস জনসন ও জেরেমি হান্ট ট্রাম্পের এধরনের বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করছেন। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিভ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আবার কেবল শে^তাঙ্গদের দেশে পরিণত করতে চান। মার্কিন রাজনীতিতে ‘প্রতিবাদী’ চার নারীকে এখন ‘স্কোয়াড’ বলে ডাকা হচ্ছে। চার মহিলার প্রত্যেকেই অল্প বয়সে অ-শ্বেতাঙ্গ কংগ্রেস সদস্য হয়ে সাড়া ফেলেছেন এবং অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সরব রয়েছেন। ইলাহান যুক্তরাষ্ট্রে য় আসেন ছোটবেলায়। ১৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। আলেক্সান্দ্রিয়ার জন্ম নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে— ট্রাম্পের জন্মস্থান কুইন্স হসপিটাল থেকে যা ১৯ কিলোমিটার দূরে!

গত সপ্তাহেই ওই চার কংগ্রেসওমেন ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে সরব হন। ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গেও প্রাচীর তোলার বাজেট নিয়ে মতানৈক্য হয় তাদের। সরকারের বরাদ্দে পেলোসি সায় দিলেও মানেননি চার কংগ্রেসওমেন। অবশ্য এখন পেলোসি স্কোয়াডের পাশেই রয়েছে। বলেছেন, ‘যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসওমেনদের দেশ ছাড়তে বলছেন, তখন ওঁর ‘আমেরিকাকে ফের মহান করার স্বপ্ন’ই জোরদার হচ্ছে, যেখানে তিনি শুধু শ্বেতাঙ্গদের আমেরিকা তৈরি করতে চান। আমাদের বৈচিত্রই আমাদের শক্তি।’

এদিকে মার্কিন মহিলা ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন মেগান র‌্যাপিনো বলেছেন, ট্রাম্প তার বার্তার মাধ্যমে আদতে দেশবাসীর মধ্যে বৈষম্য তৈরি করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের প্রতিই তার সমান যত্নশীল হওয়া উচিত। মেগানের নেতৃত্বে নারী ফুটবলে সদ্য বিশ্বকাপ জিতেছে আমেরিকা। আনুষ্ঠানিক ভাবে তার দলকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণও জানালেও মেগান ফের সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি যাচ্ছি না। দলের সকলের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ওরাও যেতে আগ্রহী নন।’

 

সিএনএন/বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত