প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমার অভিনয়জীবন

খালেদ মুহিউদ্দিন : ১৯৯৬ সাল। সায়েম বললো আজ তাকে একটু জলদি উঠতে হবে। কাজ আছে। গুড্ডু, আসাদ আর আমি চেপে ধরতে জানা গেলো আসল কাহিনি। ফারিয়া আপা একটি প্যাকেজ নাটক বানাচ্ছেন, তাতে ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া দুটি ছেলে লাগবে। ভাবির বোন বলে সায়েম স্বেচ্ছাসেবক হতে রাজি হয়েছে, আমাদের তিনজনের মধ্য থেকে কেউ রাজি হলে ওর আর কষ্ট করে অন্য মুরগি ধরতে হবে না। আসাদ আর গুড্ডু এমন এক ফুঁ দিলো যে সায়েম বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য হলো। আমার দিকে তাকাতেই আমি রাজি হয়ে গেলাম। নাটকে অভিনয় বলে কথা। এলিফ্যান্ট রোডের এক বাসায় বেলা তিনটার দিকে হাজির হলাম আমরা। সোফায় গুছিয়ে গল্প হচ্ছে, আমরা বসার জন্য চেয়ার পেলাম। জানলাম নাটকটির নাম অভিমানে অনুভবে। মৌ আর টনি ডায়েস অভিনয় করবেন। আমি আর সায়েম হা করে ঝলমলে মানুষজন দেখি আর ঢোক গিলি।

পাঁচটার দিকে মেকআপম্যান আমাদের মুখে পাউডার আর কী কী যেন মেখে দিলেন। রাত আটটার দিকে শাহবাগের একটি বইয়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হলো আমাদের। ওখানেই টনি ডায়েস এলেন, তার বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করা কবির বকুলও। ১০টার দিকে বিরানি খেয়ে বাড়ির পথ ধরলাম। এই নাটকে অভিনয় করার কথা বন্ধু-বান্ধব, মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন কাউকে জানাতে ভুলিনি। সবাই কমবেশি আমার মতোই রোমাঞ্চিত। সবাইকে আরও বললাম আমার নামের সঠিক বানানটি বোঝাতে আমাকে কতো বেগ পেতে হয়েছে। ম এ হ্রস্ব উকার হ এ হ্রস্ব ইকার আর দয়ে দয়ে দীর্ঘ ইকার, সোজা কথা! সময় এলো নাটকটি প্রচারের। আমার পরিচিত সবাই নাটক দেখতে বসলেন। আমি তখন জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে। আমার প্রথম ও এখন পর্যন্ত শেষ টিভি অভিনয় নিয়ে এই একুশ বছর তেমন কোনো কথা হয়নি। কেন হয়নি তা আপনারাই বিবেচনা করবেন। তার আগে নাটকে আমার উপস্থিতির বর্ণনা দেয়া যাক। টনি ডায়েস মৌকে ভালোবাসেন। বাসেন বলেই খুব হিংসা তার। মম চরিত্রে অভিনয় করা মৌ একজন মডেল। তার ছবি ম্যাগাজিনে ছাপা হয় হামেশাই। এ রকম এক ম্যাগাজিনের কাভার ছবি হয়েছিলেন মৌ। সায়েম আর আমি ম্যাগাজিনের দোকানে গিয়েছিলাম। খানিক দূরে বন্ধু কবির বকুলকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন টনি ডায়েস। সায়েম একটি ম্যাগাজিন হাতে নিয়ে আমাকে বললো, এটা কে মম না? ক্যামেরা সায়েমের কাছ থেকে জুম আউট করে স্থির হলো টনি ডায়েসের মুখে। চোয়ালবন্ধ রাগী চোখে তিনি কবির বকুলের দিকে তাকিয়ে আছেন। আবার ক্যামেরা জুম ইন করলো আমাদের উপর। আমি ইতিবাচক ইশারায় মাথা উপর-নিচ করলাম। জুম আউট হতে হতে টনি ডায়েস কবির বকুলের হাত ধরে বললেন, চল এখান থেকে। ও নামের বিষয়টিও বলা উচিত। সকল শিল্পীর শেষে আমার উল্লেখ ছিলো বলা উচিত আমাদের। আপনারা দেখলে হয়তো নামের বানানটা ওরা বুঝছিলো কিনা সে বিচার করতে পারতেন না, ‘আরও অনেকে’ থেকে সেটা বোঝা একটু মুশকিলই বটে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত