প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বাড়ায় সংসদে রওশনের ক্ষোভ

আসাদুজ্জামান সম্রাট : করে বাড়ানোয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের উপ নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, হঠাৎ করে গ্যাসের দাম কেন বাড়ানো হলো। আমি শুনেছি, আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়াতে চাই না। এটা জনগণের কথা আমার কথা না। যেদিন বাজেট পাস হলো সেদিন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো। গণশুনানির পর দেখা গেল গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে। আমরা যখন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিলাম, তখন ভারত গ্যাসের দাম কমিয়ে দিল। ঘরে রান্নার গ্যাসের দাম ১০০ টাকা কমিয়ে দিল। তিনি বলেন, আমাদের তো প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। সেগুলো উত্তোলণের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। হয়তো ২/৩ বছর লেগে যাবে। গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে যদি কোনো কিছু করা যায়। জনগণকে একটু রেহাই দেন। অনেক জনগণ আছে যাদের এত দাম দিয়ে গ্যাস কেনার সামর্থ্য নেই। জনগণকে একটু রেহাই দেওয়া উচিত। শিশু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী।

অসহায় শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, এমপিও ভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষকরা আন্দোলন করছে। তারা বেতন পাচ্ছেন না। এই অসহায় শিক্ষকদের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাই। শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ।

বিরোধী দলীয় উপ নেতা বলেন, স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে আমাদের ছেলেমেয়েরা অন্যরকম জগত তৈরি করছে। এর হাত থেকে যদি তাদেরকে বাঁচানো না যায় তাহলে তারা কীভাবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের রাস্তা খুঁজতে হবে। অনেক জায়গা আছে যেখানে ফেসবুক নাই। তারা যদি সারারাত জেগে স্মার্ট ফোন দেখে। ঘুম নাই, লেখা পড়া নাই। একেকটার চেহারা কেমন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে দিনরাত পরিশ্রম করে গণমাধ্যম কর্মীরা তথ্য সরবরাহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উন্নয়নে কোনো সরকারি গুরুত্ব দেয়া হয় না। যদিও বর্তমান সরকারের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবেন। ওয়েজ বোর্ড যেন সাংবাদিকরা পায় সেটি বাস্তবায়নে তথ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করেন।

রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের দেশে যখন আমরা বাজেট পাস করি তখন থাকে ভর বর্ষা। অর্থবছর পরিবর্তন করলে উন্নয়নে কাজে লাগবে। পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের জলবায়ুর সঙ্গে মিল রেখে অর্থ বছর পরিবর্তন করেছে। আপনারা যদি বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করেন। আমার মনে হয় অর্থবছর পরিবর্তন করতে পারলে আমাদের উন্নয়ন আরো ভালো হবে।

তিনি বলেন, ডাক্তার আছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ যন্ত্রপাতি আমাদের দেশে আছে। কিন্তু ডাক্তাররা রোগিদের সময় দেন না। ডাক্তাররা সময় দেন না বলে বেশিরভাগ মানুষ দেশের বাইরে চলে যান। এ সময় অবিলম্বে মেয়াদোর্ত্তীণ ঔষধ যেন বাজারে বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা।

তিনি বলেন, খাদ্য ভেজাল এখনো বন্ধ হয় নাই। ঔষধ আর খাদ্য মানুষের মৌলিক উপাদান। এই দুটি উপাদান ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, চলতেও পারে না। আমাদের ছোট ছোট শিশুরা যদি ভেজাল খাদ্য খায় তাহলে দেশ গড়ার কাজ করবে কীভাবে? বাচ্চাদের খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এই বাচ্চারাই ভবিষ্যতে এই দেশকে নেতৃত্ব দেবে।

রওশন বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এই ধরণের শিশু নির্যাতন কেন গড়ে উঠেছে? বিশেষ করে স্কুলে-মাদ্রাসায় কোনো জায়গায় আমাদের বাচ্চারা সুরক্ষিত না, নিরাপদ না। যদি নিরাপদ না হয় তাহলে লেখাপড়া করবে কীভাবে? নুসরাতের মতো যদি জীবন দিতে হয় এটা দু:খ জনক। আমাদের দেশে আইন আছে। আমি সরাসরি বলতে চাই, এদের মৃত্যুদÐ দিতে হবে। ইদানিং দেখা যাচ্ছে অনেক বেশি। কোনো জায়গাতে বাচ্চারা নিরাপদ না। এই ধরণের অবস্থা আগে ছিল না। এ সময় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, তাদের দ্রæত শাস্তি দেওয়া উচিত। মামলাগুলো ঝুলিয়ে না রেখে তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত।

রওশন বলেন, ধানের এই অবস্থা হলো কেন? এই রকম হলে তো কৃষকরা আর ধান চাষ করবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে কৃষকদের হানড্রেড পার্সেন্ট ভর্তুকি দেয়। কৃষকদেরকে হানড্রেড পার্সেন্ট ভর্তুকি দিয়ে উৎসাহি করতে হবে। যাতে তারা ফসল উৎপাদন করে আমাদের খাদ্য সরবরাহ করতে পারে। প্রত্যেকবার যদি কৃষকরা আগুন দিয়ে ধান পুড়িয়ে ফেলে তাহলে তো এই দেশ বাঁচবে না। কৃষকরা এই দেশটাকে বাঁচায়। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
খাদ্যে ভেজাল এখনো বন্ধ হয়নি। যদি ঔষধ ও খাদ্য দুটি ভেজাল হয় তাহলে সুস্থভাবে কাজ করবে কীভাবে। ৫২ পণ্য উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।
ইদানিং দেখা গেছে শিশু নির্যাতন। মহামারি আকার ধারণ করছে। স্কুলে মাদ্রাসায় নিরাপদ না। নিরাপদহীনতায় যদি বাচ্চারা ভোগে তারা কীভাবে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠবে। বিশেষভাবে চিন্তা করবে। আমি আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া উচিত। ইউকেতে কৃষকদের একভাগ ভর্তকি দেয়া হয়। আমাদের দেশেও তাদের ভর্তুকি দিতে হবে। কৃষক বাঁচালে দেশ বাঁচবে। কৃষকদের বাঁচাতে হবে।

দেশের অর্থনীতি যেভাবে বাড়ছে সেভাবে দরিদ্র কমেছে না। বাঁধাগুলো দূর করতে পারলে উন্নয়ন সমান তালে চলতে পারে। অর্থবছর পরির্তন করা দরকার। বর্ষকালে কাজ হয় না। তাই অর্থবছর পরিবর্তন করা যায় কিনা, সেদিকে দৃষ্টি দেয়া যায় কিনা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নারীদের উন্নয়ন শিশুদের মানসিক শাররিক উন্নয়ন করার ব্যাপরে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করেন। বক্তব্যের শেষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের উন্নয়নের বিভিন্নদিক তুলে ধরেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত