প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশের জলবায়ু উদ্বাস্তু ৬০ লাখে পৌঁছেছে, সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা

আসিফুজ্জামান পৃথিল : জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশের একটি বাংলাদেশ। উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সর্বাধিক। প্রতিনিয়ত বিরুপ আবহাওয়ার করণে বহু মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা ৬০ লাখ স্পর্শ করেছে। এনার্জি, আনাদুলু এজেন্সি।

তবে এই বিরুপ পরিস্থিতি বাংলাদেশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিচ্ছে। বাংলাদেশ একটি লো-কার্বন দেশ। এই পরিস্থিতি সামালানোর ক্ষেত্রে দেশটি সারা বিশে^র মধ্যে বড় ধরণের উদাহরণ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করে। বাংলাদেশের এই সংক্রান্ত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্বন নিস:রণ হ্রাস এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করা। দেশটি এমন এক বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে যার নূন্যতম দায় তাদের নয়। দেশটির গ্রীষ্ম দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, শীতকালের অস্তিত্ব একেবারেই লোপ পেতে বসেছে। বর্ষাকাল আর পূর্বের নিয়ম অনুযায়ীঅ আসে না। মাঝেমাঝে দেখা যাচ্ছে খরা। আবার গুট করেই আসছে অকাল বন্যা। এতে একেবারেই বাস্তুভিটা হারাচ্ছে বহু মানুষ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরণের ঘটনা ঘটছে উপকূলীয় জেলাগুলোতে। এই মানুষগুলো আশ্রয় নিচ্ছে জনবহুল শহরগুলোতে। হারিয়ে যাচ্ছে বহু ঐতিহ্যবাহী পেশা।

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জলবায়ু উদ্বকাস্তুর সংখ্যা ৬০ লাখ। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দক্ষিণাঞ্চলে। এদিকে দক্ষিণেরই জেলা কক্সবাজারে বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। যা পরিস্থিতি আরো খারাপ করছে। তবে বাংলাদেশরও সাফর‌্য কম নয়। সাস্প্রতিক এক আলোচনায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন সামাল দেওয়ার কর্মসূচীর উদাত্ত প্রশংসা করেছেন। তারা বলছে বিশে^র দুই শীর্ষ কার্বন নিস:রক ভারত ও চীন নিকট প্রতিবেশী হওয়ার পরেও বাংলাদেশ সবুজের পথে থাকার জন্য দূর্দান্ত লড়াই করছে। বিশে^র অন্যতম কার্বন নিস:রক দেশটি শিল্পায়নের দিকে এগুতে চায়, তারা সেটা করছেও। কিন্তু বাংলাদেশ পরিবেশকে ধ্বংস না করে এর সর্বোচ্চ ব্যবহারের যে নীতি নিয়েছে তা প্রশংসাযোগ্য।

সেই সঙ্গে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বাংলাদেশের রয়েছে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিজেদের বাস্তুভিটা হারানো মানুষগুলো যেনো শহরে ভীর না জমায় সরকারের সেজন্য গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প রয়েছে। এই গ্রামগুলোতে সবুজায়ন এবং স্বচ্ছল অর্থনীতির চুড়ান্ত সম্মিলন ঘটছে। যা আসলেই প্রশংসনীয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত