প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিয়ে করা নবীগণের সুন্নত

আমিন মুনশি : নারী ও পুরুষকে আল্লাহ্ পাক সৃষ্টি করছেন একে অন্যের পরিপূরক হিসাবে। আবার উভয়কে একত্র করার জন্যে দিয়েছেন বিবাহের ব্যবস্থা। মানবজাতিকে কেয়ামত পর্যন্ত টিকিয়ে রাখার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বিবাহ। বিবাহের মাধ্যমে মানব জীবনে এক নতুন দিগন্ত খুলে যায়। জীবনে আসে পবিত্র চালচলন। বিবাহের মাধ্যমে একটি নারী সামাজিক উৎপাত, অপবাদ এবং নির্লজ্জতা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে মানসম্মান নিয়ে জীবনযাপন করতে পারে। বিবাহিত জীবন মেয়েদের জন্যে যেমন এক নিরাপদ জীবনব্যবস্থা তেমনি পুরুষের জীবনকেও মধুময় করে তুলতে তার গৃহে পদার্পন করে একজন স্ত্রী।

যদি কেউ বলে যে, আমি খুব ভালো মানুষ। আমার নারীর প্রতি কোনো আর্কষণ নাই; তবে সে মিথ্যা বলবে। কারণ স্রষ্টা তার সৃষ্টির অবস্থা খুব জানেন। তিনি স্বয়ং বলেছেন- নারী, রাশিকৃত স্বর্ণরৌপ্য, চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদি পশু এবং ক্ষেত খামার প্রতি আসক্তি মানুষের (পুরুষ) জন্য সুশোভিত করা হয়েছে। (সূরা ৩ আলে ইমরান ১৪ আয়াতাংশ)। এই আয়াতে বলা হয়েছে নারীর প্রতি আকর্ষণ মানুষের জন্ম সত্ত্বার সাথে মিশানো আছে। সুতরাং বিয়ে হলো নারী-পুরুষের আসক্তির বৈধ মেলবন্ধনের উপায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তবে বিবাহ করো নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই, তিন বা চারজন। আর যদি আশংকা করো সুবিচার করতে পারবে না; তবে একজনকে।’ (সূরা ৪ নিসা ৩ আয়াতাংশ)

বিবাহ সকল নবীর সুন্নত। হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে যতো নবী-রাসূল এসেছেন সবাই বিবাহ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘আপনার পূর্বে আমি তো অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম’। (সূরা ১৩ রা’দ ৩৮ আয়াতাংশ) আর নবী ও রাসূলগণ যা করেন তা মানুষের জন্যে সর্বোত্তম অনুসরণীয় কাজ। হাদিস শরিফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- হে যুবক সকল! যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে বিবাহের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ করলে দৃষ্টিকে নীচু রাখা যায় এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করা যায়। আর যে ব্যক্তি বিবাহ দায়িত্ব পালন করতে পারবে না সে যেন রোজা রাখতে থাকে। কারণ রোজা তার খাহেশকে কমিয়ে দিবে (বুখারি, মুসলিম)।

ওলামায়ে কেরাম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, যদি কারো খাহেশ এত বেশি হয় যে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং বিবাহ না করলে গুনাহের পথে পা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকে, আর সে দেনমোহর ও খোরপোষ দিতে সক্ষম থাকে তবে তার জন্যে বিবাহ করা ফরজ। অন্যাথায় সে রোজা রাখবে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিবাহ করা ওয়াজিব এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিবাহ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ্। অর্থ্যাৎ ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী শরিয়তের হুকুম ভিন্নতর হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তাঁর কুদরতের চিহ্নসমূহের মধ্যে রয়েছে এই যে- ‘তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্যে থেকে সৃষ্টি করছেন তোমাদের সঙ্গিনীদিগকে, যেমন তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করছেন’ (সূরা ৩০ রুম, আয়াত ২১)

আল্লাহ পাক পুরুষের মতো নারীর অন্তরেও ভালবাসা সৃষ্টি করেছেন। সেই ভালোবাসা দিয়ে নারী তার পুরুষকে কর্মজীবনে উৎসাহ ও উদ্দীপন সৃষ্টি করে দেয়। ফলে পুরুষ তার কর্মের শক্তি লাভ করে এবং প্রশান্ত চিত্ত নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত থাকতে পারে। যৌবনকাল একে অপরকে ভালোবাসা বিতরণ করে থাকে। আবার যখন বার্ধক্য এসে যায় তখন তাদের অন্তরে দয়া সৃষ্টি করে নেন। অর্থাৎ বার্ধক্যে একে অপরের প্রতি দয়ার বশবর্তী হয়ে জীবন কাটাতে পারে। হাদীস শরিফে আছে, যখন পুরুষ তার স্ত্রীর দিকে স্নেহের দৃষ্টিতে তাকায় আর স্ত্রী তার স্বামীর দিকে স্নেহের দৃষ্টিতে তাকায় তখন আল্লাহ পাক তাদের উভয়ের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে চেয়ে থাকেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত