প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ
‘শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না’

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ঢাবি প্রতিনিধি: খুন, ধর্ষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ করেছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। বুধবার প্রতিবাদ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, কার্জন হল, শহীদ মিনার এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শেষ হয়।

অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দেশের নানা অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। এছাড়া সচেতন নাগরিক সমাজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রীদের ব্যানারে মুখে কালো কাপড় বেধে মৌন মানববন্ধন করা হয় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে। তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর দেন।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ সভাপতি (ভিপি) ও সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘আজকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত দেখি, সকল জায়গায় দলীয় এক লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির মাধ্যমে মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। যখন দেখি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোট কারচুপির সঙ্গে শিক্ষকরা জড়িত থাকেন, তখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আমাদের সেই শ্রদ্ধাবোধটুকু থাকে না। তখন শিক্ষকরা জাতির বিবেক নাকি জাতির ‘চোর’, সেটা আমাদের মধ্যে প্রশ্ন জাগে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি নয় মাসের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। শিশু ও ফুলকে পবিত্রতার প্রতীক বলা হয়। কিন্তু এই পাষণ্ড চোরেরা ফুলের দিকে যৌনতার দৃষ্টিতে তাকায়। আজকে আমরা দেখি অপরাধ করে অপরাধীরা ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যান।’

ডাকসু ভিপি বলেন, ‘এদেশে অন্যায়-অবিচার যেদিকে যাচ্ছে, আজকে যদি আমরা না জাগি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। পরবর্তী প্রজন্ম আমাদেরকে ধিক্কার দেবে।’তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা সমাজের মানুষের মধ্যে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় লক্ষ্য করছি। সেই জায়গা থেকে যদি ছাত্ররা প্রতিবাদ না করেন, তাহলে আমাদের আগামীর সমাজ অন্ধকারে ধাবিত হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হলে শিক্ষার্থীদের তাকে জানানোর আহ্বান জানান এবং সে বিষয় সুরাহার আশ্বাস দেন তিনি ।
যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে গুম, খুন ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।’

যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, ‘দেশে ধর্ষকের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এটা সরকারের ব্যর্থতা। শিশু সামিহা কি অপরাধ করেছিল? একের পর এক অপরাধ বেড়েই চলছে, এখনো এর বিচার পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের তরুণ সমাজকে ডাকতে হবে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অন্যায় দেখছি, কিন্তু ভয়ে কোনো কথা বলি না, চুপসে যাই। প্রতিবাদ করলে মনে হয়, এ যেন সবচেয়ে বড় অন্যায়কারী। যারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধ করে, তাদের ছাড় দেওয়া হয়। খুনিরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যাদের ফাঁসি দেয়ার কথা তারা মুক্তি পেয়ে যান। আজকের তরুণ সমাজ কে ডাকতে হবে।’

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘দেশের চিরাচরিত সমাজব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। ছয় মাসের শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করা হচ্ছে। একের পর এক এরকম অনেক ঘটনা ঘটছে, কিন্তু এগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ছাত্র সমাজ যখন মাঠে নামবে না, যখন ডাকসু চুপ হয়ে থাকবে, যখন বিচার বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করবে, এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ভালো কিছু আমরা লক্ষ্য করি না। অতি সত্বর দায়িত্বশীল যারা আছেন, তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করে ধর্ষকদেরকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আমাদেরকে বারবার ফাঁকা বুলি শোনাবেন না।’
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত