প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনপ্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ?

আশিক রহমান : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে গেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ঐক্যফ্রন্ট জনপ্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে-এমন অভিযোগও করেন তিনি। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর এই অভিযোগ কতোটা যুক্তিসঙ্গত? নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট কি আসলেই জনপ্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ? যদি সত্যিই ব্যর্থ তাহলে কেন? সরকারের ইশারায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট, এমন অভিযোগ কি তাহলে সত্যি?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিলো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এই ফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিলো মানুষের মধ্যে তারা তা কতোটা পূরণ করতে পেরেছে, একাদশ নির্বাচনেই দেখা গেছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড নেই। থাকবে কী করে, তাদের কি জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারকারী নেতা আছেন? খুচরা কিছু দল নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিলো, কিন্তু তারা সে প্রত্যাশা মেটাবে কী করে, সেই জনসমর্থন থাকতে হবে তো। বিএনপি নানা কারণে নিজেদের তুলে ধরতে পারছে না। বিএনপির অবস্থা তো এমনিতেই খুব একটা ভালো নয়। আওয়ামী লীগ ছাড়া তো এখন কেউ আর শক্তিশালী নয়। কারণ দলটি সরকারে আছে। তাদের দলও তৃণমূলভিত্তিক। ফলে তাদের সঙ্গে অন্যরা পেরে উঠবে কী করে?
গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঐক্যফ্রন্ট গঠনের নেপথ্যের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গঠিত হওয়ার পর এই পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রমে মোটেও সন্তুষ্ট নই আমি। তবে ঐক্যফ্রন্টের মূল দল হচ্ছে বিএনপি। দলটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান না হলে ঐক্যফ্রন্ট শক্তিশালী হবে না বা জোর পাবে না। সমস্যা মূলত এটাই। বিএনপি এখন

দিশেহারা। দলটির চোখে ছানি পড়েছে, অপারেশন করে ছানি অপসারণ না করলে আশার আলো দেখতে পাবে না কেউ।
মানুষ আশা করেছিলো, দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন দরকার। ঐক্যফ্রন্ট মানুষের মধ্যে সেই আকাক্সক্ষা তৈরি করেছিলো। মানুষ মনে করেছিলো, ঐক্যফ্রন্ট হয়তো রাজনীতিতে নতুন কিছু দিতে পারবে। পরিবর্তিত রাজনীতি তারা দেখবে। হয়তো তাদের সেই প্রত্যাশা পুরোটা মিটেনি। বহুদিন পর একটা হরতাল হলো দেশে, সকলের উচিত ছিলো তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। নৈতিক সমর্থন না দিয়ে বিএনপির উচিত ছিলো তাদের পেছনে যাওয়া। যদি এটা কাদের সিদ্দিকীও করতেন, আমরা একটা নতুন আলো দেখতাম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ঐক্যফ্রন্ট জনপ্রত্যাশা মেটাতে পারেনি, এটা অসত্য নয়। যে প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিলো ঐক্যফ্রন্টকে ঘিরে, সেটা মিটেনি। ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মানুষের কাছে যেতে পারেননি। এখানে বিএনপিরও কিছুটা ব্যর্থতা রয়েছে। মানুষের কাছে বিএপির যাওয়া দরকার ছিলো, কার্যত সেটা সম্ভব হয়নি। কেন হয়নি, তারও নানা কারণ রয়েছে। নেতৃত্বের যে দায়িত্ব পালন করার কথা সেটাও হয়নি।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পেছনে যে দর্শন বা কৌশল ছিলো তার সঙ্গে জনপ্রত্যাশার সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ। আমি নয়মাস আগের কথা বলছি। নয়মাস পর সেই বৃক্ষটি শুকিয়ে যাবে, পাতাগুলো ঝরে যাবে- এটাই স্বাভাবিক। তারপরও স্পষ্ট করে বলতে চাই- ঐক্যফ্রন্টের দল ও নেতাদের প্রতি আমার সম্মান ছিলো এবং আছে। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আগ্রহের কমতি ছিলো না, সফল হওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয়, যে পথ ও পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা এগিয়েছিলেন তা কার্যকর হয়নি। জনপ্রত্যাশা বলতে আমরা বুঝি- দেশে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক যে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। জনগণ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন নিরাপদ পরিবেশে। মানুষের দৈহিক নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনই মানুষের শান্তিরও প্রয়োজন। এসব আঙ্গিকে চেষ্টা করলেও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সফল হননি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত