প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিলকদ মাসের অনন্য ফজিলত

মাওলানা বেলায়েত হুসাইন : হিজরি ক্যালেন্ডারের বারোটি মাসের মধ্যে যে চারমাস অধিক ফজিলতের তার একটি হলো জিলকদ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট আসমান-জমিনের সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা বারোটি। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে পবিত্র মাস। এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম বা অবিচার করোনা। ( সূরা তাওবা : ৩৬)

উক্ত আয়াতে মাসের নাম অনুল্লেখ থাকলেও হাদিস শরীফে সেগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, ‘হারাম মাসসমূহের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। তা হলো- জিলক্বদ, জিলহজ ও মুহররম। আর চতুর্থটি হলো মুদ্বার গোত্রের রজব মাস; যা জুমাদাল উখরা ও শাবান মাসের মাঝখানে অবস্থিত। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

জিলকদ মাসের বড় একটি ফজিলত এজন্য যে, রাসূল সা. জীবনে যে চারবার পবিত্র ওমরা পালন করেছেন তার সবগুলোই ছিলো জিলকদ মাসে। আর জীবদ্দশায় একবার মাত্র পবিত্র হজ পালন করেছেন মহানবী সা.। আর এই হজের সাথে যে ওমরা আদায় করেছিলেন তার জন্য ইহরাম পরিধান করেছিলেন এই জিলকদ মাসেই। এমনকি রমজান মাসের থেকে জিলকদ মাসে ওমরা পালন করা অধিক ফজিলতপূর্ণ বলে সালফে সালেহীনের মধ্যে অনেকের উক্তি পাওয়া যায়। যেমন, হযরত ইবনে ওমর রা., হযরত আয়েশা রা. এবং হযরত আতা রহ. জিলকদ এবং শাওয়াল মাসে ওমরা পালনকে অধিক ফজিলতপূর্ণ মনে করতেন।

সূরা আরাফের ১৪২ নম্বর আয়াতের প্রথমাংশ ‘আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির’ এখানে ত্রিশ রাত দ্বারা ইশারা করা হয়েছে জিলকদ মাসের প্রতি। তাছাড়াও জিলকদ মাসে অধিক পরিমাণে দোয়া কবুল হয়-এ কথাও বিভিন্ন সালফে সালিহীন থেকে বর্ণিত আছে। আর জিলকদ মাস হারাম বা সম্মানিত হওয়ার পিছনে যে কথা প্রচলিত রয়েছে, তা হলো- জাহেলি যুগে আরবরা জিলকদ মাসে হজের সফরে বের হতো, এজন্য তারা এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ এবং পরস্পর হানাহানি করা থেকে বিরত থাকতো এবং এসবকে হারাম মনে করে শান্তভাবে বসে থাকতো। আরবিভাষায় ‘কুয়ুদ’ অর্থ বসা; যেহেতু আরবরা এই মাসে যাবতীয় অন্যায়-অনাচার থেকে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকতো তাই ‘কুয়ুদ’ থেকে রূপান্তরিত হয়ে এই মাসের নাম হয়েছে ‘জিলকদ’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত