প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসলে বিদায় বলতে কিছু নেই

ঈশাত আরা মেরুনা, ফেসবুক থেকে : আসলে মাঝেই হয় ছাড়াছাড়ি… ব্রহ্মপুত্রের জল কমলে বা বাড়লেও, ছেড়ে যায় না কখনোই। কতো বছর দেখা নেই মুয়াজ্জেম হোসাইন চাচা আর নার্গিস চাচীর সাথে অথবা মুনা’পু, নীনা’পু আর তিথির সাথে, মনেই পড়ে না। তিথি আমার বন্ধু, ওর সাথে আর কোনদিন দেখাও হবে না। ওতো নেই পৃথিবীতেই….

নেই হয়ে যাওয়া মেয়ের বন্ধুকে বা নেই হয়ে যাওয়া ছোট্ট বোনটির বন্ধুকে দেখার আগ্রহ জাগে কখনো। মুনা’পু শিকাগো থেকে ম্যাসেজ দিয়েছিলেন আমাকে বাংলাদেশে দেখে… কবে ফিরবো জানতে চেয়ে। চাচা চাচী তখন দেশে। চাচীর অপারেশন হয়েছে সবেমাত্র হৃদপিন্ডে। সে-ই সদা চঞ্চল কর্মঠ সুন্দর চাচী আমাদের! চাচা চাচী কত্ত সুন্দর আমরা ছোটবেলায় বলাবলি করতাম…

চাচী দেখতে চেয়েছিলেন আমাকে, দেশে।

মুনা’পু গত কয়েকদিন অনেকবার ম্যাসেঞ্জারে কল করেছেন। আব্বা চলে যাবার পরে আমাকে একটু দেখতে… ধরা হয়নি আমার।

হঠাৎ ই কাল নায়াগ্রায় ওদের ছবি দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কানাডায়!

“আমরা তোমাকে একটু দেখতে চাই”।

চাইবেন ই তো। আমরা যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সবাই এক বিশাল পরিবার ছিলাম। অধ্যাপক মুয়াজ্জেম হোসাইন তাঁর সহকর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর কন্যাকে এবং তাঁর মৃত ছোট্ট মেয়েটির সাথীকে দেখতে আসবেন না, এমনটাতো হতে পারে না..

অপু ভাই, মুনা’পু নিয়ে এলেন ওদের। চাচীর শরীরটা ভালো নয় তারপরও কেমন করে যেন সব সেই ছোটবেলার জীবন যেন সামনে এসে দাঁড়ালো, উজ্জ্বল হয়ে।

সময় ছিলো না হাতে বেশি। হঠাৎ মনে হলো পাশেই থাকা মামুন ভাইকে জানাই। ওরা ক্যাম্পাসে পাশাপাশি বাসায় থাকতেন কত্ত বছর আগে!

১৫ মিনিটের মধ্যেই মামুন ভাইও চলে এলেন, বিদায় বেলায়…

আসলে বিদায় বলতে কিছু নেই।
কেউই ছেড়ে যায় না….
একটা অদৃশ্য মায়ার টান থেকে যায় অনন্তকাল…

ইএএম/এসবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত