প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের লোকসভায় ফ্যাসিবাদের স্বরূপ উম্মোচন করলেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র

রাশিদ রিয়াজ : ভারতীয় লোকসভায় প্রথমবারের মত এমপি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র মঙ্গলবার প্রথম ভাষণে ফ্যাসিবাদ বা কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক লক্ষণসমূহ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটিকে বছরের সেরা ভাষণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বহু মানুষ।

মহুয়া মৈত্র শুরুতেই ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির বিজয়ের উল্লেখ করে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, এখন এই বিপুল জয়ের একটি প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ভিন্নমত অবলম্বনকারীদের স্বর যাতে ‘অশ্রুত’ না থাকে – তা নিশ্চিত করা। মৈত্রের বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা তিরস্কার ধ্বনি দিতে শুরু করেন। তার মধ্যেই মিস মৈত্র ফ্যাসিবাদের সাতটি প্রাথমিক লক্ষণ পড়ে শোনান।
এগুলো হচ্ছে :

১. দেশে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক জাতীয়তাবাদ ক্রমে দেশের জাতীয় পরিচয়ে পরিণত হয়। এটা ‘সুপারফিশিয়াল’ বা এর আসলে কোন গভীরতা নেই। এটা বর্ণবাদ এবং সংকীর্ণ ভাবনা। এটা বিভক্তি বাড়ায় আর কোনভাবেই ঐক্যের চেষ্টা করে না।

২. ‘মানবাধিকারের’ প্রতি একটি ব্যাপক অবজ্ঞা দেখা যাচ্ছে, যা ২০১৪ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে অন্তত ১০গুণ বেড়েছে।

৩. গণমাধ্যমের ওপর কর্তৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণের কড়া সমালোচনা করেন মৈত্র। তিনি বলেন, ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো নিজেদের এয়ারটাইমের বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের প্রচার- প্রোপাগান্ডায় ব্যয় করেছে।

৪. জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বাড়তি সচেতনতার জন্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ভারতে এক ভয়ংকর সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে এবং প্রতি নিয়ত নতুন শত্রু তৈরি করা হচ্ছে।

৫. ‘সরকার ও ধর্ম’ পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। এ সম্পর্কে কি আমার বলবার প্রয়োজন আছে? নাগরিক হবার মানে কী সেটাই আমরা বদলে দিয়েছি?’ মুসলমানদের টার্গেট করে আইনে সংশোধন আনা হয়েছে।

৬. বুদ্ধিজীবী ও শিল্পের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখানো হয়েছে, এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর শোষণ চালানো হয়েছে। একে ফ্যাসিবাদের সব চিহ্নের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর বলে মৈত্র মন্তব্য করেছেন। এটা ভারতকে অন্ধকার যুগে নিয়ে গেছে।

৭. নির্বাচন ব্যবস্থার স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে তিনি একে ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।

জেপি মর্গানের সাবেক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার মৈত্র, রাজনীতি করবেন বলে ২০০৯ সালে লন্ডনে নিজের চাকরিতে ইস্তফা দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত