প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক বোধই কেবল পারে মানুষে মানুষে কল্যাণকর সহাবস্থান তৈরি করতে

লাভা মাহমুদা : বিজেপির ভূমিধস জয়লাভ প্রমাণ করে না যে, তারা সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নয়। বরং সাম্প্রদায়িক উগ্র জাতীয়তাবাদী আদর্শই বিজেপিকে আবারো ক্ষমতায় বসিয়েছে। যদিও সাম্প্রদায়িকতা কখনোই আদর্শ হতে পারে না। সেক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে বিজেপির তুলনা বিজেপিই। যতো ভালো কাজই করুক না কেন, তাদের চরিত্র থেকে সাম্প্রদায়িকতা মুছে যায়নি। বাবরী মসজিদ- রাম মন্দির বিতর্কে গুজরাটের ব্যাপক দাঙ্গা যে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে হয়েছে সে কথা মানুষ ভুলে যায়নি। যোগী আদিত্যনাথের মতো মন্দিরের মুখ্য পুরোহিত উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এভাবেই ধর্মীয় মোড়কে আচ্ছাদিত হচ্ছে সারা ভারত। ধর্ম খুব মোক্ষম দাওয়াই… মানুষকে খুব সহজেই গেলানো যায়, তা সে যে ধর্মই হোক না কেন। এই সুযোগটাই গ্রহণ করেছে বিজেপির মতো চরম ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক দল। কংগ্রেসের মতো সর্বভারতীয় দল তাদের স্ট্রাটেজি ঠিক করতে পারেনি। তাদের মিনমিনে প্রজাতান্ত্রিক কথাবার্তায় মানুষ আস্থা রাখেনি।

তা বুঝতে পেরেই কংগ্রেস আঞ্চলিক দলগুলোর ঘাড়ে সওয়ার হয়ে এই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলো… আদতেই যা ব্যর্থ হয়েছে। যেকোনো কারণেই হোক কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক ধর্ম নিরপেক্ষ বাম বা মধ্য বাম চিন্তার রাজনীতিতে মানুষ বিশ্বাস রাখেনি… তারা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই পায়নি। শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি এই শতাব্দীতে আর চ্যালেঞ্জ নয়… প্রতিটি দেশ, প্রতিটি সরকারের এই সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। চ্যালেঞ্জ হলো সুশাসন, মানবাধিকার, মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক চেতনার উন্মেষ ঘটানো। সেক্যুলার রাজনীতির এই দুর্যোগ একদিন কেটে যাবে। মানুষ একদিন বুঝতে পারবে ধর্ম অন্তরের গভীরে চর্চার বিষয়। একে রাজনীতিতে টেনে আনা কোনো দেশ, অঞ্চলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। মানুষের মধ্যে যতো তাড়াতাড়ি এই বোধের উদ্রেক হবে ততোই মঙ্গল। ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক বোধই কেবল পারে মানুষে মানুষে কল্যাণকর সহাবস্থান তৈরি করতে… পারে মানুষে মানুষে সহমর্মিতা, মমত্ববোধ ও মানবতার গভীর বন্ধন তৈরি করতে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত