প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরগুনায় সন্ত্রাসীর সঙ্গে আধা ঘণ্টা যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

মাজহারুল ইসলাম : রিফাত শরীফ (২২) নামের এক যুবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে কয়েকজন দূর্বৃত্ত। তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার তা ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন বার বার। কিন্তু তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফের হামলা চালায় দূর্বৃত্তরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যলিক্স কিন্ডার গার্ডেনের সামনে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আহত রিফাত বেলা সাঢ়ে ৩টায় চিকিতসাধীন অবস্খায় মারা যান।তিনি সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দুলাল শরীফের ছেলে। দূর্বৃত্তেদের মধ্যে নয়ন ও ফরাজি নামের দুজনকে সনাক্ত করতে পেরেছেন নিহত রিফাতের বন্ধুরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিফাত সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন ও ফরাজিসহ আরো দুই যুবক রিফাতের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দূর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। রিফাতের স্ত্রী বার বার দৃর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তাঁরা রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তিনি মারা যান।

রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম বলেন, রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আয়েশাকে বিয়ে করা নিয়ে নয়নের সঙ্গে রিফাত শরীফের দ্বন্দ্ব চলছিল। এ কারণে রিফাত শরীফ প্রতিদিন আয়েশাকে কলেজে পৌঁছে দিতেন। স্ত্রীকে কলেজে দিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি।

নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ জানান, ২ মাস আগে রিফাত শরীফ বরগুনা পুলিশ লাইনস এলাকার বাসিন্দা আয়েশা আক্তার ওরফে মিন্নিকে বিয়ে করে। এরপর থেকেই আয়েশাকে নিজের সাবেক স্ত্রী দাবি করে পশ্চিম কলেজ সড়কের নয়ন নামের এক তরুণ। সে তাকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। এক পর্যায়ে নয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের বিরোধ হয়। এর জের ধরে নয়ন, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী ও রাব্বি আকন ফরাজী রিফাতকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রিফাতের বুকে, ঘাড়ে ও পিঠে গুরুতর আঘাত ছিলো। তা দিয়ে প্রচুর রক্ষক্ষরণ হচ্ছিল। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য নেয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বরগুনার সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মাদ হোসেন বলেন, অভিযুক্তদের ধরতে তাদের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশ ও ডিবি সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে। নয়নের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা আছে।

আর এই নৃশংস ঘটণাটির একটি ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনার ঝড় বয়ে যেতে থাকে দেশজুড়ে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রভাষ আমিন তার ফেসবুক পেজে লেখেন, একটি ভিডিও নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। আমি এখনও দেখিনি, দেখার সাহসও পাচ্ছি না। দুই সন্ত্রাসী প্রকাশ্য রাজপথে কুপিয়ে এক যুবককে হত্যা করেছে। হতভাগা যুবকের স্ত্রী চেষ্টা করেও তার স্বামীকে বাঁচাতে পারেনি। স্বামীকে বাঁচাতে না পারা সেই নারীর অসহায়ত্ব আমাদের সবাইকে গ্রাস করেছে। এভাবেই কী সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে? আর কতদিন? আর কতদিন? কবে এই নির্বিকারত্বের, প্রতিবাদহীনতার অবসান ঘটবে?

আরিফ জেপতিক তার ফেসবুক পাতায় লেখেন, আমরা আশি নব্বই দশকের পোলাপান যারা পাড়া মহল্লা আর ক্যাম্পাসে নিত্য কিরিচ রামদা এসবের মারামারি দেখে বা মারামারি করে বড় হয়েছি, তাদের অভিজ্ঞ চোখ স্বাক্ষী দেবে যে রিফাত খুনের সময় আশেপাশে যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারা দর্শক নয়, অপারেশনের অংশ |

ছোট ২/৩ জনের দল হলে ‘হিট এন্ড রান’ হয়, এত সময় নেয়া যায় না | (সাধারনত মোটর সাইকেল ব্যবহৃত হতো তখনকার যুগে |)

একটু বড় অপারেশনের সময় যারা মারে তাদের ২/৩ গুন মানুষ আশপাশ কাভার দেয় – এটা যারা সরাসরি বড় মারামারি করেছে ছাত্রজীবনে, তারা সবাই মোটামুটি জানে |

খুনি ৩ জনের বাইরে কয়েক গজের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তত ৭ থেকে ৯ জন এই খুনের অংশ, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস |

আইন শৃংখলা বাহিনী যাতে এদেরকেও খতিয়ে দেখে, এই ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করছি |

না, আমি এদের বিচার চাই না মন্তব্য করে সাব্বির খান লেখেন,প্রথানুযায়ী চাপাতি-দল বলতে এতদিন আমি জামায়াতে ইসলামী অথবা কোন ইসলামী জঙ্গী সংগঠনকে বুঝতাম। তাদের হত্যাকান্ডগুলো ছিলো অনেকটা “সিগনেচার কিলিং” এর মত। আলামত দেখলেই বুঝতে পারতাম, ওরা কারা এবং ওদের মোটিভ কি! অথচ আজ যা দেখলাম, তাতে আমি হতভম্ব, বাকরুদ্ধ!

এক বোন ‘উলঙ্গ রাস্তায়’ ঔদ্বত্য হাতে চাপাতি উচিয়ে ধরা ছেলেদের কাছে আকুতি জানাচ্ছে তাঁর স্বামীর প্রাণভিক্ষা চেয়ে। ছেলেগুলোর কোন মায়া হয় না। কুপিয়ে মেরে ফেলে বোনটির স্বামীকে। অথচ ছেলেগুলো জামায়াতে ইসলামী বা কোন ইসলামী জঙ্গী নয়। খুনটিও কোন “সিগনেচার কিলিং” নয়। তাহলে তাঁরা কারা?

এই সরকারের আমলে কার ঘাড়ে দু’টো মাথা আছে বীরদর্পে এভাবে খোলা রাস্তায় চলমান মানুষের ভিড়ে একজন ‘জ্যান্ত মানুষকে’ কুপিয়ে হত্যা করে? আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, এই খুনীরা কোন না কোনভাবে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এক একটা ফ্রাঙ্কেষ্টাইন। এদের বুকের পাটা বিশাল। এদের ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা। তানা হলে এরা নিশ্চয়ই এমন বোকা নয় যে, সবার নাকের ডগার উপর দিয়ে দিনে-দুপুরে এভাবে মানুষ হত্যা করবে।

আমার কি উচিত হবে এদের বিচার চাওয়া? আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে যে আমি বুক উচিয়ে এই নরপশু খুনীদের বিচার চাইবো? না আমি এদের বিচার চাই না। আমি বিচার চাইলে আমাকেও হয়ত কোন একদিন এভাবে কুপিয়ে হত্যা করবে। আমি ভীত, আমি নপুংশক, আমি মানবধিকার রক্ষার ব্যানারের নীচের একজন ভন্ড প্রতারক!

গাজী খায়রুল আলম মন্তব্য করেন, যারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে, ভাবছেন তারা কাপুরুষ? না, তারা কাপুরুষ নয়। তারাও আপনার, আমার ও ভিকটিমের মতো শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় জিম্মি আছে একটি মহলের কাছে।

বিঃদ্রঃ-রিফাতকে হত্যাকারী ছাত্রদলের কোন পদে আছে তদন্তের দাবী জানাচ্ছি!!!

শাহ আনোয়ার সাদাত লেখেন,এই ভীতু ও কাপুরুষ জাতির প্রত্যেকের ঘরে একটা করে লাশ উপহার দেওয়া জরুরী..! এক-দুজন গুমরে কাঁদবে কেন, এখন থেকে মুখবাঁধা প্রতিবন্ধী জাতির প্রতিটি উপলক্ষেই উপহার হোক লাশ। আর যারা সাহসিকতার সাথে কোপাতে পেরেছেন তাদেরকে জনগনের টাকায়ই জাতীয় বীর উপাধী দেওয়া হোক।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত