প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য স্বেচ্ছায় কারাবরণ ও অনশন করতে চান মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান

শাহানুজ্জামান টিটু : বুধবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে এই পোস্ট দেন। মেজর মো. আকতারুজ্জামান (অব.) বর্তমানে বিএনপির সদস্য। তার এই পোস্টটি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
ফেসবুক পোস্টটির হুবুহু তুলে ধরা হলো:

দেশমাতা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য স্বেচ্ছায় কারাবরন ও অনশন কর্মসূচি
সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। মনে হয় সরকার সহজে দেশমাতা খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিবে না। এব্যাপার আন্তর্জাতিক বিশ্বেরও তেমন মাথা ব্যাথা নাই। মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসি দির্ঘ ৬ বছর অন্যায় ও অমানবিভাবে কারাবন্দি থেকে শেষ পর্যন্ত আদালতের কাটগড়ায় বিচারকের সামনে অত্যান্ত অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করলো কিন্তু বিশ্বের মানবতা ও বিবেকের উপর তেমন কোন আচড় পড়ে নাই। ক্ষমতাসীন মিশরিয় সামরিক জান্তা যা বলছে বিশ্বও যেন তাই মেনে নিয়েছে। আমাদের বেলায়ও তাই। সরকার অত্যান্ত দক্ষতার সঙ্গে বিশ্ববাসিকে মনে হয় বুজাতে সক্ষম হয়েছে যে দুর্নীতির দায়ে দুর্নীতি কমিশনের রজুকৃত মামলায় দেশমাতা খালেদা জিয়াকে আদালত দোষি সাব্যস্থ করে কারাদন্ড দিয়েছে। বিএনপির নেতা ও তাদের অনুগত আইনজীবীরা দির্ঘ দিন আইনী লড়াই চালিয়েও খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমান করতে পারে নাই । তাছাড়া দৃষ্যত মনে হচ্ছে বিএনপি এবং বিএনপির পদাধিকারি নেতারাও এই বিচারের রায় মেনে নিয়েছে এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে অযথা নিজেদের বিপদ ডেকে আনার মত বোকা যে তারা নয় তার যতেষ্ট প্রমান ইতিমধ্যেই ঐসকল নেতারা রাখতে সক্ষম হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী একটি রাজনৈতিক শক্তির কাছ থেকে দলকে সড়িয়ে নিয়ে আসার প্রস্তুতি দেশমাতা যখন গ্রহন করতে যাচ্ছিলেন তখনই সরকার অত্যান্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশমাতাকে কারারুদ্ধ করে স্বাধিনতা বিরোধীদের পক্ষে বিএনপিকে রেখে চুড়ান্তভাবে বিএনপিকে ধ্বংশ করার নীলনকশা অনুযায়ী বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব যে দেশমাতার স্বার্থে কাজ করছে না – মনে হয় তা বুজতে জনগণের তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে ?

দেশমাতা খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনতে হলে আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই। সরকার তার চালে সঠিক। কাজেই সে কেন অযথা এবং অহেতুক খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে স্বাধিনতার পক্ষের তথা জিয়ার বিএনপিকে শক্তিশালী করতে দিবে ? এই চরম সত্যিটি যারা বুজতে চায় না তারা কখনই বিএনপির তথা জিয়ার বা খালেদা জিয়ার বন্ধু হতে পারে না। আমাদের সবার বুজা উচিত বিএনপির সঙ্গে যতদিন স্বাধিনতা বিরোধীদের গাটছঢ়া থাকবে তত দিন সরকার বিএনপিকে কোনঠাসা করে রাখতে পারবে। সরকার খুবই দক্ষতা এবং চতুরতার সঙ্গে রাজনীতিকে স্বাধিনতার পক্ষে এবং বিপক্ষে রাজনীতিকে ভাগ করে ফেলেছে। খুবই স্বাভাবিকভাবে স্বাধিনতার বিপক্ষে কম সংখ্যক লোকজন থাকবে। কাজেই স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জিয়ার গঠিত দলকে স্বাধিনতার বিপক্ষের গোষ্টির সঙ্গে যদি কাতারবন্দি করে দেয়া যায় তাহলে বিএনপিকে সহজেই বেকায়দায় ফেলা সম্ভব এবং এই রাজনৈতিক ত্বথ্য খুবই সফলতার সঙ্গে প্রয়োগ করে সরকার তার রাজনৈতিক ফায়দা কুক্ষিগত করে নিয়েছে। কোন সরকারী বাহিনী বা পুলিশ, প্রশাসন বা সরকারি কর্মচারী কখনই স্বাধিনতার বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবে না এবং তাদের চাকুরী ও পদপদবী এবং স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই প্রকাশ্যে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে অবস্থান নিতেই হবে এবং নিয়েছে।

স্বাধিনতা তথা মুক্তিযাদ্ধা ভিত্তিক রাজনৈতিক চালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি যার জন্য এরকম বৈরী রাজনৈতিক অবস্থায় আমরা এসে দাড়িয়েছি। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে দেশমাতা খালেদা জিয়ার মুক্তির কোন বিকল্প নাই। সরকারও তাদের অস্থিত্বের প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিক জিয়া এবং তার সুযোগ্য উক্তসুরি খালেদা জিয়ার বিএনপিকে মাঠে আবার দাড়াতে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে। এই চরম সত্যটি বিবেচনায় রেখেই আমাদেরকেও আমাদের অস্থিত্বের লড়ায়ে নামতে হবে। লড়াই না করতে চাইলে আমাদেরকে সরকারের চাপে বিলিন হয়ে যেতে হবে এবং খালেদা জিয়ার লাশের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প থাকবে না । দেশমাতা খালেদা জিয়াকে যদি জেলখানায় মৃত্যবরন করতে হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিএনপি তথা সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধিনতার ঘোষক জিয়ার বিএনপি স্বাধিনতা বিরোধীর শিবিরে হারিয়ে যাবে যার চেষ্টা আওয়ামী লীগ তথা ভারতীয় আগ্রাশনের অনুসারীরা ১৯৮১ সন থেকে করে আসছে।

বিএনপি আজকে পালিয়েও বাচতে পারবে না। হাজারো আপোশ করলেও সরকারের দমন পিড়ন থেকে বিএনপি রক্ষা পাবে না। নাকি কান্না করে বা সরকারের হাতপা ধরে বা কপট আন্দোলনের হুমকি থামকি দিয়ে দেশমাতা খালেদা জিয়াকে কখনই মুক্ত করা যাবে না। দেশমাতাকে মুক্ত করতে হলে বুকের তাজা রক্ত দিতে হবে। রক্ত দিতে না পারলেও অন্তত জেল জুলুম নির্যাতন ভোগ করার জন্য কয়েক হাজার নতুন মুক্তিযোদ্ধা দরকার। একাত্তরে যেমন আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে হানাদার পাকিস্থানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে এনেছিলাম। তেমনি আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যদি এই প্রজন্মের নতুন মুক্তিযোদ্ধারা জেল জুলুম নির্যাতন মাথা পেতে নিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরন করতে পারে তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ৭ দিনের মধ্যে দেশমাতাকে মুক্ত করে আনতে পারা যাবে ইনসালাহ। এ মুক্তিযুদ্ধ কাওকে আঘাত করে, কোন মারামারি কাটাকাটি নয়, কোন সন্ত্রাস বা বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টি করে নয়। এ যুদ্ধ হবে আত্মত্যাগের – নিজেকে দেশমাতার মুক্তির জন্য সমর্পন করে।

বিএনপি একটি বিশাল দল। যার লক্ষ লক্ষ ত্যাগী নেতাকর্মী আছে যারা গত ১২ বছর ধরে জেল জুলুম গুম খুনসহ হাজারো নির্যাতন ভোগ করে এখনও টিকে আছে। এই লক্ষ লক্ষ কর্মীদের মধ্যে থেকে যদি দশ হাজার নেতাকর্মী স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হয়ে কোন উকিল মোক্তার বা ব্যারিষ্টারের কাছে জামিনের জন্য না গিয়ে জেলখানায় ডুকে গিয়ে সারা দিনরাত জিকির করে – দেশমাতার মুক্তি চাই- মুক্তি চাই তাহলে আমি বিশ্বাস করি দেশমাতাকে মুক্ত করে আনা অসম্ভব হবে না । যতদিন পর্যন্ত দেশমাতার মুক্তি না হবে ততদিন পর্যন্ত যদি দেশমাতার মুক্তি চেয়ে এই দশ হাজার স্বেচ্ছায় কারাবন্ধি নেতারা জেলখানায় আমরন অনশন করে তাহলে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হবেই হবে। প্রয়োজনে জেলখানায় অনশন করে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে যদি সরকারকে চ্যালেজ্ঞ দিতে পারা যায় – সরকার কত লাশ চায় ? আমার মনে হয় আমরা দৃঢ়চিত্ব ও অটল থাকলে সরকার দেশমাতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবেই হবে।
তাই দেশমাতার মুক্তির জন্য আমি আমার ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগ স্বেচ্ছায় কারাবরনের একটি কর্মসুচি ঘোষনা করতে চাই:

১। দেশমাতার মুক্তির জন্য আমরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারারারে, কেরানীগজ্ঞে গিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবো। যদি গ্রেফতার না করা হয় তাহলে সেখানে অব্যহত অবস্থান করবো।
২। যেখানে পুলিশ বাঁধা দিবে সেখানেই আমরা স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরণ করবো। গ্রেফতার না করলে সেখানেই বসে পড়ে অনশন শুরু করবো।
৩। কারাগারে নেয়ার পরে আমরা দেশমাতার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বা আমরন অনশন শুরু করবো।
৪। কেউ জামিনের জন্য আবেদন করবো না।
৫। কারাবরন করার পরে পরিবারের সদস্য ও আত্মিয়স্বজনদের সঙ্গে কোন দেখা সাক্ষাত করবো না এবং তাদেরকে কোন উকিল মোক্তার বা ব্যারিষ্টারদের কাছে যেতে বিরত রাখবো। পরিবারের পিছুটান যাদের আছে তাদের স্বেচ্ছায় কারাবরণ কর্মসুচিতে অংশগ্রহন না করাই শ্রেয় হবে।
৬। জেলখানায় কোন পিসি লাগাতে দিব না এবং কোন নেতার করুনা বা দয়াদাক্ষিন্ন্য কামনা করবো না।
এই কর্মসুচি বাস্তবায়ন করার জন্য নুনতম দশহাজার স্বেচ্ছায় কারাবরণের আগ্রহীদের সদস্যভুক্ত করা হবে।
তাই আমি বিনিত ভাবে আমার প্রিয় বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের কাছে আবেদন করবো- দেশমাতার মুক্তির জন্য আপনি কি এগিয়ে আসবেন না ?? যদি আগায়ে আসেন তাহলে আপনার নাম আমার ইনবক্সে পাঠান। দশ হাজার পুরা হলেই আমরা দলে দলে এসে কেরানীগজ্ঞ জেলখানায় এসে স্বেচ্ছায় কারাবরন করবো এবং আমরন অনশন শুরু করবো। যদি পুলিশ পথে বাধা দেয় তাহলে সেখানেই আমরা স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হবো। তারপরে যে জেলখানায় পাঠাবে সে জেলখানাতেই আমরন অনশন শুরু করবো। দেখি সরকার কত দিন দেশমাতাকে কারা রুদ্ধ করে রাখে??

মুক্তি দেশমাতার হবেই হবে। আছেন কেউ আমার প্রিয় বিএনপিতে যিনি দলের চেয়ারপার্সন দেশমাতা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য স্বেচ্ছায় কারাবরন করে জেলখানায় অনশন করবেন? বিএনপির প্রিয় ভায়েরা, দেশমাতা তাকিয়ে আছে আপনার দিকে- অনেক দিনতো অপেক্ষা করলেন- আর কত দিন অপেক্ষা করবেন ??? দেশমাতার মৃত্যু পর্যন্ত ?? দেশমাতা খালেদা জিয়া কারাগারে বন্ধি থেকে মরে গেলে পরে ঘর থেকে বের হয়ে কি হবে??? বন্ধুগন দেশমাতা আপনাকে ডাকছে- আস আস বন্ধুরা আস- আমাকে মুক্ত করো। ওরা আমাকে মেরে ফেলতেছে।
প্রিয় বন্ধুরা আপনার পথ চেয়ে আছি। লাইক নয়। বলুন আপনারা আসবেন। যত তাড়াতাড়ী দশ হাজার নাম পাব তত তাড়াতাড়ী কারাগারের দিকে আমরা যাত্রা শুরু করবো। আজ থেকে যে কোন সময় আমি গ্রেফতার হয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরন ও অনশন শুরু করবো। আমার গ্রেফতারের পরে আপনারা আসবেনতো দেশমাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ???
দি আপনি এই কর্মসুচিতে অংশগ্রহণ করতে চান তাহলে :

১। আপনার নাম আমার ইনবক্সে পাঠান।
২। প্রয়োজনে প্রতি জেলা ও উপজেলায় কেউ একজন দায়িত্ব নিয়ে জেলা ও উপজেলায় আগ্রহীদের তালিকাভুক্ত করতে পারেন।

বিনিত
মেজর অব মো আখতারুজ্জামান, বিএনপির একজন সাধারন নগন্য সদস্য ও দেশমাতার হতভাগ্য সন্তান।
২৬ জুন ২০১৯

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত