প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশকে বদলে দিচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতি

নূর মাজিদ : এজাজ জামান বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একজন জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রভাব এবং তার কল্যাণে আসা আমূল আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে তিনি একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। যা চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। সূত্র : ডবি¬উইফোরাম ডটওআরজি ।

এজাজ জামান লিখেছেন, বিশ্বে ডিজিটালাইজেশনের প্রভাব প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশও এখন ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশকে মূল লক্ষ্যে পরিণত করেছে। কারণ, এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রয়েছে বিপুল আউট সোর্সিয়ের সম্ভাবনা । বাংলাদেশের মতো একটি তরুণ ও মেধাবি জনগোষ্ঠী স¤পন্ন দেশের জন্য যা এক বিপুল সম্ভাবনা। কারণ ডিজিটালাইজেশন শুধু তার নিজস্ব সেবাখাতেই উদ্ভাবনী কার্যক্রম বৃদ্ধি করে এমন নয়, এটা স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করে। যা আবার সরাসরি অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করে। এখন কম খরচ এবং ঝুঁকির কারণে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বৃহৎ প্রযুক্তি খাতের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো আউট সোর্সিয়ের জন্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশমুখী হচ্ছে। ফলে সা¤প্রতিক সময়ে দেশের ফ্রিল্যান্সিং জগতে এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের আওতায় ওয়েব পোগ্রামিং ও ডিজাইন থেকে শুরু করে আয়কর প্রস্তুতিপত্র এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সহ প্রায় সকল প্রকার জানা-অজানা কাজ আছে। এটা উদীয়মান বাজারগুলোর যুব সমাজের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, দুই দশক আগেও যার কার্যত কোন অস্তিত্ব ছিলোনা। বর্তমানে এশিয়া মহাদেশই বিশ্বের এক নম্বর আউটসোর্সিয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার অনেক সুবিধা রয়েছে। গ্রাহক বা প্রজেক্ট বাছাইয়ের স্বাধীনতা, বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, যে কোন স্থানে থেকেই কাজ করার সুবিধা ইত্যাদি তার মাঝে অন্যতম। সসবচাইতে বড় কথা হলো, একজন ফ্রিল্যান্সারকে রোজ ঢাকা শহরের দুঃসহ ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে রোজ কর্মস্থানে পৌছানোর ভোগান্তি পোহাতে হয়না। আপনার নিজ বাসস্থানের আঙ্গিনা বা নিজের বেড রুমটাকেই বানিয়ে ফেলতে পারেন ব্যক্তিগত অফিস। বাংলাদেশী তরুণরা সবসময়েই নতুন বিষয়ে আগ্রহী। আর ইতিমধ্যেই অনেকের কাছে ফ্রিল্যান্সিং আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার অপশন হয়ে উঠেছে। এটা তাদের নিজস্ব পছন্দমাফিক জীবন-যাপন এবং আয় নির্ধারণের বাড়তি সুযোগও সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে বিগত এক দশকে ব্যাপক নগরায়নের হাত ধরে ইন্টারনেট সংযোগের পরিমাণ বেড়েছে। মোবাইল কোম্পানিগুলোর বদৌলতে এখন অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পাওয়া যাচ্ছে এই সেবা ব্যবহারের সুযোগ। এছাড়াও, সরকারি এবং বেসরকারিখাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের কারণে এখন দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে পড়ছে ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রম। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের অনলাইন কর্মশক্তির দ্বিতীয় বৃহৎ সরবরাহকারক পরিণত হয়েছে। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউড প্রকাশিত এক সা¤প্রতিক প্রতিবেদন এই কথা জানাচ্ছে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ৬ লাখ নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। যারা বার্ষিক ১০ কোটি ডলার দেশের অর্থনীতিতে যোগ করে, অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত