প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কম্বোডিয়ায় গোরস্থানের ভেতরে বাস করছে হাজারের বেশি মানুষ

দেবদুলাল মুন্না: গৃহযুদ্ধের অবসানের পর কম্বোডিয়া অতি দ্রুতগতিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। নদীর ধার বা শহরের মধ্যে যাদের ঘরবাড়ি সরকারি উন্নয়নের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের অনেকের জন্য সবচেয়ে ভালো পছন্দ গোরস্থান।কারণ কম্বোডিয়ার জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও গোরস্থানগুলো এখনও মূলত ভিয়েতনামীদের দখলে।ভিয়েতনামীদের বিশ্বাসমতে, পরিবারের কেউ মারা গেলে তাকে যে গোরস্থানে কবর দেওয়া হয়, ওই পরিবারের কোনো সদস্যকে নিয়মিত ওই কবরের দেখভাল করতে হয়। তাই দরিদ্রদের অনেকই গোরস্থানে বসবাস করেন।একইদিকে যেমন তারা রীতি পালন করেন তেমনই উন্নয়নের নামে তাদের বস্তি ভেঙে ফেলার কারণে ঠাঁই নিয়েছেন গোরস্থানে। গোরস্থান অবশ্য উন্নতমানের।সার্বক্ষনিক বিদ্যুত থাকে।বাজারও গোরস্থানের পাশেই।মিমলা, মোর সান ও শিপ্টা এই তিন গোরস্থানে বাস করেন প্রায় হাজার সংখ্যক মানুষ।এই তিনটি গোরস্থানই নমপেনে অবস্থিত। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু এই পরিমাণ প্রবৃদ্ধি থাকলেও নমপেনের যত্রতত্র বস্তি দেখা যায়। দেশটির ১৪ শতাংশ বাসিন্দাই দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছেন।দেশটির কথিত উন্নয়নের ফলে যাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। বিশেষ করে তারাই আশ্রয় নিয়েছেন গোরস্থানে।এমনই একটি পরিবার মা নিথ।নমপেনের বাসিন্দা মা নিথ বিশ্বাস করতে পারছেন না রাজধানীর মোর সান গোরস্থানে তাকে বসবাস করতে হচ্ছে। অথচ এক সময় বেশ ধুমধাম করে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পরও কোনো ধারণাই ছিল না যে তার ঠিকানা হতে যাচ্ছে কোনো এক গোরস্থানে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাসের বাইরে ছিল এটা। কিন্তু এখন আমাকে এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’

মিমলাতে বসবাসরত ৫৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বলেন, ‘এই গোরস্থানে বাস করা নিরাপদ। কারণ এর কাছেই বাজার আছে। এ ছাড়া এখানে বিদ্যুৎ আর পানিও আছে।আমি আত্মায় বিশ্বাস করি না বলে ভয় পাই না।এখানে থাকতে আমার সমস্যা হয় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত