প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিভোর্স দেয়া স্ত্রী ম্যারিনার কাছেই ফিরে যেতে চান বরিস জনসন

রাশিদ রিয়াজ : ২৫ বছর সংসার করার পর যে স্ত্রী ম্যারিনা হুইলারকে ডিভোর্স দিয়ে বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডস’এর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছেন ব্রিটিশ রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য বরিস জনসন। এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বরিস জনসনই সম্ভাব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন যখন এমন জল্পনা কল্পনা চলছে তখন বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডস’এর সঙ্গে তার নাকি একেবারেই বনিবনা হচ্ছে না। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দি সান, মিরর সহ একাধিক মিডিয়ায় রটনা উঠেছে গত ৬ সপ্তাহে জনসনের সঙ্গে ক্যারির অন্তত চারবার বড় ধরনের মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটেছে। তিন সপ্তাহ আগে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে তাদের প্রায় ছাড়াছাড়ি হবার উপক্রম হয়। বরিস জনসনের এধরনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সিএনএন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া যে ফলাও করে প্রতিবেদন কিংবা টকশো’তে চায়ের কাপে ঝড় তুলছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে আগামী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি অন্য সবার চেয়ে দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

তাদের বন্ধুরা বলছেন, বরিস যখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্যে প্রচারণার চাপে রয়েছেন ঠিক তখন ক্যারির সঙ্গে এমন জটিল সম্পর্কের উদ্ভব হয়েছে। সিএনএন বরিস জনসনকে জিজ্ঞেস পর্যন্ত করেছে একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তার রাজনীতির ওপর কতখানি প্রভাব ফেলতে পারে? জবাবে বরিস বলেছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত সে সম্পর্ক কোনো অপরাধে পরিণত হয় ততক্ষণ তা রাজনীতি বা সমর্থকদের জন্যে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে না। বরিসের বন্ধুরা এও বলছেন, শেষ পর্যন্ত ক্যারির সঙ্গেই বোঝাপড়া হয়েছে এবং তাদের সম্পর্ক এ যাত্রা টিকে গেছে। কিন্তু বরিসের বন্ধুদের আরেকটি সূত্র বলছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বরিস তার ডিভোর্স দেয়া স্ত্রী ম্যারিনার কাছে ফিরে যাওয়া সঙ্গত মনে করলেও চার সন্তানের জননী এতে কোনো সাড়া না দেয়ায় ক্যারির সঙ্গেই বনিবনা করতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ ম্যারিনা এত সহজে বরিসের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা ভুলে যাননি।

বান্ধবীর সঙ্গে দিন কয়েক আগে বরিসের বিতর্ক প্রতিবেশিদের বিরক্তের কারণ হলে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায় এবং পুলিশ আসতে বাধ্য হয়। পর্যবেক্ষকরা এও বলছেন ভাবি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসনকে এধরনের সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাকা তার নিরাপত্তার জন্যেও প্রয়োজন। সাউথ লন্ডনের ক্যামবারওয়েলের ফ্লাটে তাই ৫৫ বছর বয়স্ক সাবেক এই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস ও ৩১ বছর বয়স্ক ক্যারির মধ্যে সম্পর্ক যতই স্বাভাবিক হবে তা তাদের জন্যে রাজনৈতিক সফলতা নিশ্চিত করবে। এজন্যে তার দিন কয়েক ওই ফ্লাটে না থেকে এক গোপন স্থানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি এলবিসি রেডিও’র আয়ান ডেলকে বরিস বলেছেন, যতক্ষণ না ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমার কোনো অপরাধ না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ে মানুষের শোনার কোনো আগ্রহ নেই বলেই মনে করি।

যদিও বরিসের প্রতিবেশিদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়াগুলোর মুখরোচক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তুমুল ঝগড়ার এক পর্যায়ে ক্যারি তার ফ্লাট থেকে বরিসকে বের হয়ে যেতে বলেন। এসময় বরিসও তার ল্যাপটপ ক্যারির কাছে ফেরত চান। এবং শেষ পর্যন্ত তারা তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই ওই ফ্লাট ছেড়ে অজানা গন্তব্যে পৌঁছেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত