প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি স্থায়ী কমিটি, টুকু-সেলিমাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নিউজ ডেস্ক : বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে ঠাঁই পেলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির মোট পদ ১৯টি। নতুন দু’জনের অন্তর্ভুক্তির পর কমিটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১৬। বাকি তিনটি শূন্য পদও শিগগিরই পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্নিষ্ট সূত্র। সমকাল

এদিকে স্থায়ী কমিটিতে টুকু ও সেলিমা রহমানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিএনপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা না করেই স্থায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করায় সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না কেউ। গত শনিবার স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্য নেতাদের তোপের মুখে পড়েন। এরপর মুলতবি বৈঠকের আগেই নতুন দুই নেতাকে পদোন্নতি দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। কেউ কেউ বলছেন, স্থায়ী কমিটিতে মির্জা ফখরুলের বলয় শক্তিশালী করতেই টুকু ও সেলিমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তারা দু’জনই ফখরুলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুলের পক্ষে কথা বলার লোক বাড়াতেই এই দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭(খ)(৬) উপধারায় ‘চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিসমূহের শূন্যপদ পূরণ করতে পারবেন।’

এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, চেয়ারপারসন কিংবা চেয়ারম্যান একক ক্ষমতাবলে দু’জনকে পদোন্নতি দিতেই পারেন। কিন্তু দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলে রাজনীতির সৌন্দর্য বাড়ত এবং প্রক্রিয়াটিও গণতান্ত্রিক হতো। স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যদের এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করলে তারাও সম্মানিত হতেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

স্থায়ী কমিটিতে নতুন দু’জনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যানরাও। কারণ স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতি পাওয়ার ক্ষেত্রে টুকু ও সেলিমার চেয়ে আলোচনায় এগিয়ে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান পর্যায়ের আরও একাধিক নেতা। তারা হলেন- শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ করে নোমান এবং হাফিজউদ্দিনকে নিয়ে তাদের অনুসারীদের প্রত্যাশা ছিল বেশি। স্থায়ী কমিটিতে তাদের জায়গা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

 

গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির নতুন দু’জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কাউন্সিলের পর তাদের কমিটিগুলো পুনর্গঠিত হয়েছে, কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে কয়েকটি শূন্য পদ রয়েছে। তাদের কয়েকজন বরেণ্য নেতা মারা গেছেন। ওই শূন্য পদগুলোর মধ্যে দু’জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নতুন দু’জন সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, স্থায়ী কমিটিতে বাকি যে শূন্য পদগুলো আছে সেগুলোও পূরণ করা উচিত। তাদের দলে উপযুক্ত ও যোগ্য নেতা রয়েছে, সেহেতু এসব পদ পূরণে কোনো সমস্যা নেই। এতে করে কাজ করতেও সুবিধা হয়। শূন্য পদগুলো পূরণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো নেতা অসুস্থ থাকতে পারেন, বিদেশে যেতে পারেন। এ কারণে তাদের বৈঠকে কোরাম সংকটের সৃষ্টি হয়। যদি এই পদগুলো পূরণ হয়, তাহলে এই সংকট আর থাকবে না।

স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গতকাল বলেন, দলের এই দুর্দিনে তাকে মূল্যায়ন করে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করায় তিনি দলের হাইকমান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ। নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও ত্যাগ স্বীকার করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে আনার ব্যাপারে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবেন বলে জানান টুকু।

সেলিমা রহমান বলেন, দল ও রাজনীতির এই দুঃসময়ে তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি বাইরে থাকলে এবং এই সুসংবাদ তার কাছ থেকে পেলে দ্বিগুণ খুশি হতাম। এরপরও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সেলিমা।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ১৭ জন স্থায়ী কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান) তারেক রহমান ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। পরে এর মধ্যে তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার মারা যাওয়ায় আরও তিনটি পদ শূন্য হয়।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত