শিরোনাম
◈ ভারতের পতাকা অবমাননা করায় ‌ক্রিকেটার হার্দিক পা‌ন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা!  ◈ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে সমর্থন তুরস্কের ◈ জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে নৌবাহিনী: আইএসপিআর ◈ সংসদে উত্তেজনার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে ইনকিলাব মঞ্চের হুঁশিয়ারি ◈ ঈদে নিরাপত্তায় পুলিশের পরামর্শ ◈ ওয়াকআউটের অধিকার তাদের আছে, তবে প্ল্যাকার্ড না দেখালেও পারতেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের কা‌ছে পাকিস্তানের পরাজ‌য়ে ক্ষে‌পে‌ছেন বা‌সিত আ‌লি, বল‌লেন গেম প্ল্যানকারীকে গুলি করা উচিত ◈ মির্জা আব্বাসসহ ৫ জন সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত ◈ সংসদে সাউন্ড সিস্টেমে বিপর্যয়, অধিবেশন ২০ মিনিট বিরতি ◈ সংসদ যেন কোনো ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়: ডাঃ শফিকুর

প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০১৯, ০৯:৩৫ সকাল
আপডেট : ১৮ জুন, ২০১৯, ০৯:৩৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘হাতপাখা’ গ্রামের নারীরা স্বল্প সুদে ঋণ চান

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভালাইন গ্রামটি এখন হাতপাখা গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এ গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক দরিদ্র পরিবার হাতপাখা তৈরি করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। সেই সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন তারা। তাল পাতা দিয়ে তৈরি হাত পাখার চাহিদা বেশি থাকায় এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে স্বল্পসুদে ঋণ এবং সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আরো এগিয়ে যাবেন বলে মনে করছেন এসব কারিগররা।

জানা গেছে, মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে উত্তরগ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত ভালাইন গ্রামটি। এ গ্রামে প্রায় ৬৫টি পরিবারের বসবাস। এ গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ হাত পাখা তৈরির সাথে সম্পৃক্ত। প্রায় ২৫ বছর থেকে এ গ্রামে তালপাতা দিয়ে হাত পাখা তৈরি হয়ে আসছে।
প্রতি বছর এ গ্রাম থেকে ঢাকা, সৈয়দপুর, রাজশাহী, পঞ্চগড়, ফরিদপুর, দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ পাখা সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

পাখা তৈরির উপকরণ তালপাতা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ এবং বিক্রির কাজ মূলত পুরুষরাই করে থাকেন। পাতা রোদে শুকিয়ে পানিতে ভেজানোর পর পরিস্কার করে পাখার রূপ দেয়া হয়। এরপর রং মিশ্রিত বাঁশের কাঠি, সুঁই ও সুতা দিয়ে পাখা বাঁধার কাজটা করেন গৃহবধুরা। সংসারের কাজের পাশাপাশি তৈরি করা হয় এ তাল পাখা। পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পাখা তৈরি করে বাবা-মাকে সহযোগীতা করে থাকে।
গৃহবধু আনজুয়ারা বেগম বলেন, পাখা তৈরি করে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই সন্তানকে পড়াশুনার খরচ বহন করছেন। এ পাখা তৈরি করেই সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে।

গৃহবধু ফাহিমা, খোরশেদা, কোহিনুরসহ কয়েকজন বলেন, পুরুষরা শুধু তালপাতা নিয়ে এসে শুকানোর পর পরিস্কার করে দেন। এরপর আমরা সাংসারিক কাজের পাশাপাশি পাখাকে সুঁই-সুতা দিয়ে সেলাই ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করি। প্রতিদিন আমরা ৫০-১০০ টা পর্যন্ত পাখা তৈরি করতে পারি।

পাখার কারিগর সাইদুর রহমান বলেন, জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড্ডা ও রোহনপুর থেকে তালপাতা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি তাল পাতার দাম পড়ে ৫টাকা। এরসাথে রঙিন বাঁশের কাঠি ও সুতা খরচ হয় দেড় টাকা। প্রতিটি পাখা তৈরিতে খরচ পড়ে সাড়ে ৬টাকা করে। সেখানে আমরা পাইকারি বিক্রি করি প্রতি পিচ ১০-১২ টাকা। ঢাকা ও সৈয়দপুরসহ কয়েকটি জেলায় নিজে গিয়ে পাইকারি দিয়ে আসেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা প্রতিটি পাখা বিক্রি করেন ২৫-৩০ টাকা করে। পাখা তৈরিতে যে পরিশ্রম হয় তুলনায় আমরা দাম পাই না।

আরেক কারিগর আনোয়ার হোসেন বলেন, এ গ্রামের তিনশতাধিক মানুষ পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিভিন্ন এনজিও (বেসরকারি সংস্থা) থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে পাখা তৈরি করতে হয়। ফলে লাভের একটি অংশ চলে যায় এনজিওতে। সরকার যদি স্বল্পসুদে আমাদের ঋণের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে কিছুটা লাভ থাকত।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোবারক হোসেন বলেন, পাখা তৈরির কারিগররা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজেদের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন করে চলেছেন। আর্থিক কারণে যেন এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগীতা প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেন। সম্পাদনা : মিঠুন রাকসাম

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়