প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কায়রোতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মুরসির দাফন

রাশিদ রিয়াজ : মুসলিম ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কবরের পাশে মিসরের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত মোহাম্মদ মুরসিকে গোপনীয়তার সাথে দাফন করা হয়েছে। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য জানান, মুরসির ছেলে আহমদ মুরসি। টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসির নামাজে জানাযা হয় কায়রোর তোরা কারাগারের মসজিদে। আহমদ মুরসি জানান, মুরসির নিজ শহর শারকিয়্যায় মুরসির দাফন হোক সেটি চেয়েছিল তার পরিবার। কিন্তু মুরসির পরিবারের এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাকে নেসার সিটিতে কড়া নিরাপত্তায় মঙ্গলবার ভোর ৫টায় সমাহিত করা হয়। সোমবার আদালতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মিসরের নির্বাচিত এই প্রেসিডেন্ট। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারকের কাছে কথা বলার অনুমতি চাইলে তাকে কথা বলতে অনুমতি দেয়া হয়। ২০ মিনিট কথা বলার পর তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রয়টার্স/টাইমস অব ইসরায়েল/আনাদোলু/আলজাজিরা/হারেৎজ

আলজাজিরা জানায়, রাজধানী কায়রোর আদালতে হামাসের সঙ্গে আঁতাত সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় মুরসি দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখছিলেন। এ সময় মুরসি বলেন, তার কাছে অনেক গোপন তথ্য রয়েছে যা তার আইনজীবী জানেন না এবং সেসব কথা তিনি আদালতকে জানাতে চান। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দাবি করেছে, কারাগারে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে মোহাম্মদ মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংস্থা মুসরির মৃত্যুর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্যে জাতিসংঘের কাছে দাবি জানিয়েছে। এ সংস্থার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক সারাহ লি উইটসন বলেন, জেলে থাকাবস্থায় তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে দেয়া হয়নি। এমনকি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি, তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতেও দেয়া হয়নি। মুরসির ডায়বেটিস ছিল। ইসরায়েলি মিডিয়া হারেৎজ’এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মুরসির মৃত্যুর পর মিসরে উদ্ভুত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে তেলআবিব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত