প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশ থেকে শিক্ষক-প্রশিক্ষক আনা হবে অর্থের অপচয়, বলছে ছাত্র ইউনিয়ন

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ঢাবি: বাজেটে শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ করার প্রচ্ছন্ন রূপরেখা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের বিষয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে সংগঠনটি।

ছাত্র ইউনিয়ন মনে করছে, এর মাধ্যমে শিক্ষাকে একটি বিশেষ শ্রেণির হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ২৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অভ্যন্তরীণ শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে জনপ্রশাসন বা নিজ নিজ বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের বাইরে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেখানোর প্রহসন ও প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা বাজেট বক্তৃতায় লক্ষ্যণীয়। আর এর পুরো ব্যাপারে অস্বচ্ছতা রয়েছে। শিক্ষাখাত থেকে প্রযুক্তি খাতের বাজেট আলাদা করলে গত বাজেটের চেয়ে মাত্র ০ দশমিক ০৯ শতাংশ বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।

আরো দাবি করা হয়, শিক্ষায় বরাদ্দ মোটামুটি সব সময়ই মোট বাজেটের ১০ থেকে ১১ শতাংশের আশপাশেই রয়েছে, ২০ শাতংশ বরাদ্দ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে এক করে মোট বাজেটের ১৫.১৯ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেখানোর মিথ্যা চেষ্টা বাজেটে লক্ষ্যণীয়।

বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার বিষয়টি তুলে ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা বলেন, এটি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু হবে না। যতোক্ষণ না আমাদের দেশীয় শিক্ষকদের দলীয় আনুগত্য ও লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষা প্রথা বন্ধ না হবে।

বাজেটকে শিক্ষাবান্ধব করতে সাত দফা দাবিও জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজেটে সমতা ও ন্যায্যতা সৃষ্টির ভিত্তিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান-বাণিজ্যিক ব্যাংক-বিমা-ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আয় বা লভ্যাংশের ওপর শিক্ষা খাতের ওপর বিশেষ সারচার্জ আরোপ, অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয়ের খাতগুলো আরও বিস্তারিত, সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করা, প্রতিশ্রুত জিডিপির ৬ শতাংশ ও মোট বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা, শিক্ষার মৌল ভিত্তি, মৌলিক দর্শন ও কাঠামো কী হবে এবং উচ্চশিক্ষা, মাধ্যমিক-প্রাথমিক-কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, নাগরিক ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে বিশেষায়িত টাস্কফোর্স বা কমিশন গঠন।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল। অংশ নেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষী রায়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাগীব নাঈম, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নজির আমিন চৌধুরী প্রমুখ।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত