প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই বাজেট কি ‘সবারই কাজে লাগবে সবারই কল্যাণে আসবে?’

বিভুরঞ্জন সরকার : ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ হয়েছে জাতীয় সংসদে। এখন সংসদের ভেতরে-বাইরে বাজেট নিয়ে কয়েকদিন আলোচনা হবে এবং তারপর মাসশেষে বাজেট সংসদে পাসও হবে। কোনো সরকারের কোনো বাজেটই সব মহলের প্রশংসা পায় না। বরং বাজেটের বিরুদ্ধেই বেশি বলা হয়, বলার কথাও থাকে। যারা সরকারে থাকে, যাদের ওপর বাজেট পেশ, পাস এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব তারা বাজেটে খারাপ কিছু, নেতিনাচক কিছু দেখেন না। নিজের ছেলে কানা হলেও পদ্মলোচন – বাজেটের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। কিন্তু যারা সরকারের বাইরে থাকে তারা বাজেটকে সমালোচনার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখে থাকেন। একটি বাজেটের সব কিছু ভালো হয় না, আবার সব কিছু খারাপও হয় না। ক্ষমতাসীনদের নীতি-আদর্শকে সামনে রেখেই বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেটে যে হিসাব,পরিসংখ্যান উল্লেখ থাকে তা সব সময় সঠিক হয় না। আয়-ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা বাজেটে উল্লেখ করা হয় তা-ও সব সময় বাস্তবায়ন এবং আদায়যোগ্য হয় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত বাজেটের পক্ষে বলেছেন, ‘বাজেটটি এমনভাবে করে দিয়েছি যে সবারই কাজে লাগবে, সবারই কল্যাণ আসবে’। সবাই অবশ্য তা মনে করছেন না। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি বলেছে, ‘এই বাজেট উচ্চ আয়ের মানুষকে অনেক বেশি সুবিধা দেবে। মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষ সুফল কম পাবে’। সিপিডি এটাও বলেছে যে,‘প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, গড় মাথাপিছু আয় বাড়ছে, গড় আয়ু বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে আয়বৈষম্য, সম্পদবৈষম্য’। সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি বলেছে, ‘একটি গোষ্ঠীকে লাভবান করতেই এই বাজেট’। বিএনপি মনে করছে, ‘সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে একটি ঋণনির্ভর বাজেট দেওয়া হয়েছে’। সরকারের মিত্র তথা জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন মনে করেন, ‘মধ্যবিত্তদের চাপে রেখে বাজেটে ধনীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখানো হয়েছে’। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া, ব্যাংকিং খাতের প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দেওয়া, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, কৃষকের ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত না করার বিষয়গুলোর সমালোচনা অনেকেই করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কৃষকদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ধান উৎপাদনে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়। কৃষকদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদের। দেখেও যাচ্ছি’। তিনি জানিয়েছেন, চার লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরও গুদাম নির্মাণ হচ্ছে এবং আরও ধান কেনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাজেটে যতোটুকু বলা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি বিষয় বলার বাকি রয়ে গেছে। আমার বলার কথা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের ভালো করতে পারছি কি না। এই বাজেটে সাধারণ মানুষের উপকার হচ্ছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ’।

এবারের বাজেট সাধারণ মানুষের কতোটুকু উপকারে আসবে, সেটা এখনই বলার সময় নয়। বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলেই সেটা স্পষ্ট হবে। তবে গতানুগতিক ধারায় বাজেটকে ‘গরিব মারা’র বাজেট বলার সুযোগ বোধহয় তেমন নেই। বাজেট নিয়ে যেসব আলোচনা- সমালোচনা হচ্ছে, যেসব পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বাজেট পাসের আগে সরকার তা বিবেচনায় নিলে ভালো হবে। যারা বাজেট নিয়ে কথা বলছেন তারা কেউ নিশ্চয়ই মানুষের কল্যাণ না চাওয়ার দলে নয়। সবাইকে ঢালাওভাবে ‘ভালো না-লাগা’র দলে ঠেলে না দেয়াই সরকারের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত