প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী

মহসীন কবির: ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করছেন। এর আগে মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

এটি দেশের ৪৮তম ও বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’- শিরোনামের এবারের বাজেট শুধু এক বছরের জন্য নয়, তৈরি করা হয়েছে ২০৪১ সালকে টার্গেট করে। তবে এ বাজেট সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সরকারকে মুখোমুখি হতে হবে নানা প্রতিকূলতার।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- প্রবৃদ্ধিতে অসমতা, বিনিয়োগ সংকট, সুশাসনের ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা, অর্থনীতির আকারে রাজস্ব আদায় কম, বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতি।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধিকে আগামী তিন বছরে ৮ দশমিক ৬ শতাংশের ঘরে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বিশাল ব্যয়কে মেলাতে গিয়ে উচ্চ রাজস্ব আদায়ের হিসাবও করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চান ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধিকে টেনে নিতে চান ৮ দশমিক ৬ শতাংশে।

আজ জাতীয় সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে, এর সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এ ব্যয় মেটাতে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় হবে তিন লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

আয় ও ব্যয়ের ফারাক ঘাটতি থাকবে (অনুদানসহ) এক লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া এ ঘাটতির পরিমাণ হবে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা হয়েছে এ বাজেট। এবারের বাজেটের আকার বাড়লেও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা হবে সংক্ষিপ্ত। তবে এ বক্তৃতার একটি বর্ধিত সংস্করণ বাজেট বই আকারে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যা সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য হবে সহজপাঠ্য।

বাজেটের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী হলেও তা অর্জন করতে চেষ্টা হবে সাধ্যের মধ্যে। রাজস্ব আদায়ে করের হার না বাড়িয়ে বরং করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে এবারের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে এনবিআরের জন্য নতুন করে দিকনির্দেশনা থাকবে।

কাস্টমস আইন ও আয়কর আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে সহজবোধ্য ও ব্যবসাবান্ধব করা হবে। সব আমদানি-রফতানি পণ্য শতভাগ স্ক্যানিং করা হবে। নতুন বাজেটে শিক্ষা ও আর্থিক খাত সংস্কার, শেয়ারবাজারে সুশাসন ও প্রণোদনা প্রদান বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে।

বাজেটে শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হচ্ছে বহুল আলোচিত নতুন ভ্যাট আইন। যেটি প্রণয়ন করা হয়েছিল ২০১২ সালে। এতে ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে থাকলে কিছুটা ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে মধ্যবিত্ত পরিবারের। কারণ আইনটি কার্যকরের পর কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এর খেসারত ভোক্তাকে গুনতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে নতুন করে কোনো করারোপ করা হবে না- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু জনগণকে করের বোঝা থেকে রক্ষা করতে তিনি নজর দেবেন নতুন করদাতার ওপর। করযোগ্য কিন্তু কর দিচ্ছেন না, এমন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ জন্য তিনি পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আরও ৮০ লাখ জনকে কর জালের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে করদাতার সংখ্যা ২০ লাখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত