প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ম্যারাডোনাকে নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার

নুর নাহার : ফুটবলের একটি জীবন্ত কিংম্বদন্তী ম্যারাডোনাকে নিয়ে নতুন প্রামাণ্য চিত্র শুক্রবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই ছবির বেশির ভাগ অংশ জুড়েই আছে ইতালিয় ক্লাব নেপলির হয়ে যখন ম্যারাডোনা খেলেছিলেন তখনকার সময়ের। যখন কিনা তার মাদকাসক্তি এবং নেপলির মাফিয়া চক্রে সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হয়েছিলো। বিবিসি বাংলা-৭.৩০
ম্যারাডোনার ভক্তদের কাছে এখনো তিনি এক মহানায়ক। সমালোচকদের কাছে তিনি এক বির্তকিত চরিত্র। কিন্তু নেপলিসের মানুষ কিভাবে দেখছেন ম্যারাডোনাকে? যিনি তাদের প্রিয় ক্লাবকে দুই দুইবার শিরোপা জিতিয়ে দিয়েছেন।
১৯৮৪ সালের জুলাই মাস। কাঠ ফাঁটা গরমে অতিষ্ঠ নেপলিসের মানুষ। বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়ারকে নিয়ে নেপলসের রাস্তা দিয়ে ছুঁটে চলেছে একটি গাড়ি। তখন ইতালির দরিদ্রতম শহর নেপলিস আর্থিক সংকটে প্রায় দেউলিয়া। কিন্তু মানুষ তখন অন্য এক উত্তেজনায় উন্মাদ। শহরের এক সাংবাদিক লিখেছিলেন, আবাসন, স্কুল, বাস, কর্মসংস্থান, পয়:নিষ্কাশন, এর কোনো কিছু নিয়েই আমাদের মাথা ব্যাথা নেই। কারণ আমাদের আছে ম্যারাডোনা।

আর্জেন্টিনার গুয়েনস আয়ারসের এক দরিদ্র এলাকা থেকে ম্যারাডোনার নতুন ঠিকানা হয় নেপলস। তিনি যখন স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান তখন সেখানে হাজার হাজার ভক্তের উন্মাদনা। ম্যারাডনার মধ্যে তখন তারুণ্যের আত্মবিশ্বাস। চেহারার মধ্যে নিষ্পাপ সারল্য। তিনি আজ বিশ্বের সেরা ফুটবলার। কিন্তু আজকের নেপলসের ম্যারাডোনাকে নিয়ে এই উন্মাদনা আর ভালোবাসা কতটা অবশিষ্ট আছে?

যে স্টেডিয়ামে তিনি খেলতেন তার পাশের একটি কার পার্কের নাম এখনো ম্যারাডোনার নামে। কাচের একটি কফিশপের মগে তার ছবি। কফি খেতে আসা ফ্রানসিসকো ওয়াডেসিবল ছিলেন। তার বয়স যদিও তখন অনেক কম ছিলো। ম্যারাডোনাকে নিয়ে তার সেই উন্মাদনা এখনো মনে করতে পারেন।

তিনি বলেন, নেপলি যখন দ্বিতীয়বার ইতালির শিরোপা জিতলো তখন আমার বয়স মাত্র ৪ বছর। কিন্তু তাতে কি, সেই আমি ফুটবলের ভীষণ পাগল। লীগ শিরোপা জেতার পর যে উৎসব শুরু হলো আমি সেই কথা এখনো মনে করতে পারি । সব রাস্তা নীল রঙে রঙিণ করা হয়েছিলো। নেপলসের মানুষ যে তাকে কতটা ভালোবাসেন তা আর কি বলবো।
জন মারিও বলেন, সেদিন কোনো খেলা ছিলো না। কিন্তু সেদিনও অনেক মানুষ এসেছিলো তাকে দেখার জন্য। ম্যারাডোনা বল নিয়ে তার পায়ের কারিশমা দেখাচ্ছিলো। আমি প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে গেছি।

ম্যারাডোনাকে নিয়ে মাঠে দর্শকরা গান গাইতেন । যে গানের অর্থ হচ্ছে, তুমি কি জানো কেন আমার স্পন্দন বেড়ে গেছে? কারণ আমি ম্যারাডোনাকে দেখেছি। আর প্রথম দেখাতেই তার প্রেমে পড়ে গেছি।

ইতালির সঙ্গে ম্যারাডোনার এই ভালোবাসার টান পড়েছে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের দিকে। সেমি ফাইনালে ইতালি আর আর্জেন্টিনার আগে দেখা গেলো এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

ইতালির দর্শক নাকি আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীতকে অবমাননা করেছে তাই ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যারাডোনা তাদেরকে গালি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইতালি যাই বলুক নেপলস এখনো ম্যারাডোনাকে ভালোবাসেন। তার জন্য মোমবাতি জ্বালান। কারণ তিনিই প্রথম তাদের সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত