প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

পুলিশও ঘুষ দেয়, দুদকও ঘুষ নেয়

ওয়াসিম ফারুক : সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াসহ সব মিডিয়ায় একটি  রেকর্ড খুব বাজছে তাহলো দুদকের একজন পরিচালককে পুলিশের একজন ডিআইজি ঘুষ দেয়ার ফোন রেকর্ড।  ঘুষ দেয়া ও নেয়া উভয়ই অপরাধ।  তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আমাদের সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি বাধ্য হয়েই ঘুষ দিতে হয়।  সাধারণ মানুষের বাধ্য হয়ে ঘুষ দেয়া এটা তাদের কতোটুকু অপরাধ এবং এর দায় কতোটুকু তাদের এটা নিয়ে আমার যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান বেশ কিছুদিন যাবতই একটি নারী ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত। ওই বিতর্কের কারণে ডিআইজি মিজানকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত পর্যন্তও হতে হয়। গত কয়েকদিন আগে ডিআইজি মিজানুর রহমান নিজেই নিজেকে নিয়ে এক ভয়ংকর বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে থাকা অভিযোগ ধামাচাপা দিতে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরকে চল্লিশ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেন যার প্রমাণ হিসেবে খন্দকার এনামুলের সঙ্গে তার ফোনালাপের রেকর্ড তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমে দিয়েছেন এমনকি এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

বাংলাদেশে যেখানে প্রায় প্রতি সেক্টরে সবাই ঘুষ দেন ও নেন সেখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার জন্য দুদকের একজন কর্মকর্তার ঘুষ আদান-প্রদান আশ্চর্য হবার মতো কোনো বিষয়ই নয়।  তবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিজে বিশাল অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে পরে কাজ না হলে সেই ঘুষ দেয়ার প্রমাণ সংবাদমাধ্যমে দিয়ে দেবেন তা সত্যি আশ্চর্য ও চমকে উঠার মতোই বিষয়। আমি আগেই বলেছি ঘুষ নেয়া ও দেয়া উভয়ই অপরাধ এবং আমাদের সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণভাবে বাধ্য হয়েই ঘুষ দিতে হয়।

ধরে নিলাম ডিআইজি মিজানও সাধারণ মানুষের মতো বাধ্য হয়েই দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুলকে ঘুষ দিয়েছেন।  স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ডিআইজি মিজানের শুধুমাত্র ঘুষ দেয়ার জন্য চল্লিশ লাখ টাকার উৎস কি?  একজন পুলিশের কর্মকর্তার বেতনই বা কতো? পুলিশসহ অন্যান্য বিভাগের অনেক কর্মকর্তার হয়তো কোনো পারিবারিক ব্যবসা আছে ডিআইজি মিজানের পরিবারের তেমন কোনো ব্যবসা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে পুলিশ বাহিনীতে এমন কোটিপতি সদস্যের সংখ্যা কতো তা যদি আমাদের জানানো হতো তাহলে হয়তো এই বাহিনীর সম্পদশালীদের সম্পর্কে আমরা একটা বিশেষ ধারণা পেতাম। ঘুষের টাকা লেনদেনের রেকর্ড ফাঁসের পরিণাম কি হতে পারে  ডিআইজি মিজানের খুব ভালোভাবেই জানা । তারপরও প্রশ্ন সব জেনে কেন ডিআইজি মিজান এমনটি করলেন? আমরা পুলিশের মুখেই বলতে শুনেছি ‘মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ’ ডিআইজি মিজানও কি সেই একই তত্ত্বে বিশ্বাসী? ডিআইজি মিজানরা কি তাহলে বিশ্বাস করে এদেশে তাদের বিচার করার মতো কেউ নেই।  আর দুদক সম্পর্কে বলবো এটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, এর লক্ষ্য দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা। দুদকের ভেতরেই যদি অসাধুদের বাসা থাকে তাহলে দেশ থেকে তো আার দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। লেখক : কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত