প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাট পণ্যের রপ্তানিতে ধস, সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ

স্বপ্না চক্রবর্তী : তৈরি পোশাকের উপর ভর করে রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলেও মুখ থুবরে পড়েছে সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের তৈরি পণ্যের রপ্তানি। তবে আগামী বাজেটে পাটশিল্পে বিশেষ প্রণোদনাসহ এর ঋত গৌরব ফিরিয়ে আনতে নানামুখী পরিকল্পনা তৈরি করেছে সরকার। এতে করে এই শিগগরীই এ শিল্পের সুদিন ফিরবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কর্তৃক প্রকাশিত অর্থবছরের প্রথম ১০মাসের রপ্তানি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এ হিসাবে এই খাতে দেখা দিয়েছে ২১ দশমিক ৮৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এর জন্য চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের পাশাপাশি এই খাতের ঋত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকারের সদিচ্ছাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

যদিও নকশি, কারু ও তাঁত শিল্পীদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবন-মান উন্নয়নে আগামী বাজেটে ‘শেখ হাসিনা নকশি পল্লী’সহ এক ঝাঁক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার কিন্তু তবুও শ্রমিক অসন্তোষ না কমাতে পারলে পাট শিল্পের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএ’র সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বিকল্প হিসেবে পাট শিল্পের উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। কিন্তু সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোর শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ করছে। যা একটি শিল্পের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই এই খাতটিকে স্বমহিমায় দাঁড় করাতে সরকারের আন্তরিকতা সহযোগীতা একান্ত জরুরী।

তবে এ শিল্পকে পুনরায় তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে পাট খাতের আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এ খাতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পাট খাতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ বাজেটে থাকবে। এ খাতে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও কমানো হবে বলে তিনি জানান।

বস্ত্র ও পাট সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র ও পাট খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। এ খাতের দ্রæত উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা নকশি পল্লী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য আগামী বাজেটে উন্নয়ন খাতের সিলিং ৭০০ কোটি টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রাথমিক সিলিং নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে ৫৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত