প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক লাখ কোটি টাকা যারা ব্যাংক থেকে হাপিস করেছে, তাদের কি ব্যাংক থেকে ফোন দিয়েছিলো?

আরিফুজ্জামান তুহিন : স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে ২০১০ সালে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। হাতে পেলাম সম্ভবত ৯৭ বা ৯৮ হাজার টাকা। এরপর ৪৮টি কিস্তির অগ্রিম চেকও দিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী ৪৮টি কিস্তি শেষে ঋণ শোধ হওয়ার কথা। তো বহু বছর পর ব্যাংক থেকে ফোন পেলাম, তারা বললো কিস্তির টাকা শেষ। কিন্তু নানা ধরনের চার্জ বাবদ ৮৫০ টাকা দিতে হবে। মন খুব খারাপ হলো। কারণ টাকা তো শোধ দিছি। ঋণের টাকা দিছিলাম ছোট ভাইকে, সে শেয়ারাবাজারে।

ফলে সেই টাকা আলু-পটল, দরবেশ বাবারা নিয়ে গেছে। সেই টাকার ঋণ শোধের পর এখন চার্জও দিতে হবে। বঙ্গ মল্লুকে বাড়ি হলে খানা মোঘলের সঙ্গেই খেতে হবে। যা হোক মাস ছয়েক পরে টাকাটা দিই। এরপর বছর দেড়েক পর ফের ফোন, ব্যাংক থেকে বললে আরও এক হাজার একশ টাকার মতো (ঠিক মনে নেই) দিতে হবে। এবার কিঞ্চিৎ মেজাজ খারাপ হলো। বাঙালির নিজের পেটে টান পড়লে বিপ্লব করতে চায়, মনে হলো সর্বহারা পার্টি সাধে আর ব্যাংক ডাকাতি করেনি। ১১ জুন খবরের কাগজ খুলে তাজ্জব।

এক লাখ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে হাপিস। যারা হাপিস করেছে তাদের কি ব্যাংক থেকে ফোন দিয়েছিলো? বা বলেছিলো টাকা না দিলে তৃতীয় লিঙ্গ দিয়ে রাস্তায় বেইজ্জতি করবো? নাকি বলেছিলো টাকা না দিলে আপনার শ্বশুরবাড়িতে খবর পাঠাবো? আমি নিশ্চিত তারা এসব কিছু করেনি। এক লাখ টাকা নিলে গরিব গুরবাদের ওপর হ্যাডম দেখানো যায়, কিন্তু এক লাখ কোটি টাকা নিলে … নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  ছোটকালে রবীনহুড টাইপের এক বিপ্লবী শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন, ডাকাতি করলে বিমান বা ব্যাংক করিস। বুঝতে পারছি, বিপ্লবীদের কথা না শুনে কতো ভুল করেছি। এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আলু-পটলদের পেটে দিছি, কোটি মারতে পারলে আলু-পটল রপ্তানি করতে পারতাম। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত