প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদকের পরিচালক যেমন অপরাধী, ডিআইজি মিজান ঠিক ততোটাই অপরাধী

সুলতান মির্জা : ঘুষ যিনি নেয়, ঘুষ যিনি দেন, আইনের চোখে দুজনই অপরাধী। দুদকের যে পরিচালক, ঘুষ চেয়েছে কিংবা নিয়েছেন, তিনি একজন দুর্নীতিবাজ নো ডাউট… প্রশ্ন হচ্ছে, দুদকের পরিচালকের ডাকে সাড়া দিয়ে আগে থেকেই নানান অপকর্মে বিতর্কিত, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া, দুদকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ডিআইজি মিজান বাজারের ব্যাগে ভরে ঘুষের টাকা পাঠিয়ে দিয়ে কীভাবে নিজেকে একজন সৎ প্রমাণ করেও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ থেকে মুক্ত হবেন? এটা কীভাবে সম্ভব? কোন লজিকে এটা সম্ভব? আশা করি ডিআইজি মিজানের মতো নষ্ট ভ্রষ্ট কর্মকর্তাকে যারা প্রটেকশন দিয়ে এখনো রক্ষা করার চেষ্টা করছে, তারা বিষয়টা ভেবে দেখবে।

একটা ছোট্ট ঘটনা বলি, ঈদের আগের দিন রাতের বেলা আমার একটা পিচ্চি গাড়ি, আমি ড্রাইভ করতেছিলাম, ময়মনসিংহ হাইওয়েতে টহল পুলিশ দাঁড় করালো। সাইট করতে বললো… সাইট করে গাড়ি রেখে দিলাম। গাড়ির কাগজপত্র চাইলো, দিলাম… কাগজ নিয়ে একজন চলে গেলো, একজন দাঁড়িয়ে রইলো। বললো, নেমে গিয়ে স্যারের সাথে দেখা করে আসতে। জিজ্ঞেস করলাম, কেন? বললো বুঝেন না? বললাম না, বুঝি না… ক্লিয়ার করে বলেন, টাকা লাগবে? বললো, হ্যাঁ…। উত্তর দিলাম, এক পয়সাও পাবেন না। এই গাড়ির মালিক আমি, কাজেই চিন্তার কিছু নেই। আপনার স্যারকে গিয়ে বলুন, গাড়ির কাগজ দেখতে, গাড়ি দেখতে, যদি ফল্ট থাকে, তাইলে মামলা দিতে এবং মামলার স্লিপ দিয়ে দেন, আমি চলে যাবো। তারপরেও এক পয়সা দেবো না। কনস্টেবল পুলিশ, জানতে চাইলো, গাড়ির মালিক ছাড়া আরো কোনো পরিচয় আছে? বললাম, না… এই রাতে এই জঙ্গলে দাঁড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো পরিচয় নাই। যা বলেছি তা করুন… তারপরে প্রায় ১০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রেখে কাগজ দিয়ে বিদায় করলো। প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কেন টাকা দিলাম না? উত্তর হলো, আমার ফল্ট ছিলো না, গাড়ির কোন ফল্ট ছিলো না, কাজেই মামলা দেওয়ার কোনো অপশন উনাদের হাতে ছিলো না, আর কোনো ধারায় দিলেও টাকা পেলে ফান্ডে যাক, বাট রাস্তায় টাকা দেবো না। উল্লেখ্য, আমার নির্দেশে আমার কোনো চালক কোনো পুলিশকে টাকা দেয় না বলে মাসে এভারেজ দুই চারটা মামলা আমার গাড়ি খেতেই থাকে।

তো বিষয়টা হলো, ডিআইজি মিজান এখন টিভির পর্দায় যতোই সাধু সাজার চেষ্টা করুক না কেন, ডিআইজি মিজানের সমস্যা যে প্রকট সেটা মিজান নিজেই বুঝিয়ে দিয়েছে দুদকের ওই পরিচালক চাহিবা মাত্র বাজারের ব্যাগে টাকা পাঠিয়ে দিয়ে। মিজান যদি নির্দোষ থাকতেন, তাহলে তার মনে শক্তি থাকতো, এক দুদকের পরিচালক কেন? কয়েক পরিচালক মিলে ঘুষ চাইলেও টাকা দেওয়ার আগে মিজান ভাবতেন, তার কোনো পাপ নেই, কাজে কেন সে টাকা ঘুষ দেবে? যেহেতু ডিআইজি মিজান, দুদকের পরিচাললের হালকা চেচামেচিতেই ২৫ লাখ টাকা বাজারে ব্যাগে ভরে দিয়ে এসেছে, তার মানে কি দাঁড়ায়? ডিআইজি মিজান একজন শক্ত দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, নষ্ট কর্মকর্তা।

দুদকের পরিচালক যেমন অপরাধী, ডিআইজি মিজান ঠিক ততোটাই অপরাধী। দুইজনেই সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মানসম্মান নিয়ে খেলছেন, আর তাই স্ব স্ব ডিপার্টমেন্ট তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করে নিজেদের ডিপার্টেমেন্টে কোনো দুর্নীতিবাজ থাকবে না, করবে বলেই বিশ্বাস করি। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত