ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের রাজনীতিতে রহস্যপুরুষ বলে পরিচিত সিরাজুল আলম খান সম্প্রতি একটি গ্রন্থ লিখেছেন, যার নাম ‘আমি সিরাজুল আলম খান’। এই গ্রন্থে তিনি ইতিহাসবিকৃতি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রবীণ জননেতা, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ তোফায়েল আহমেদের সাক্ষাতকারভিত্তিক প্রতিবেদন করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান। প্রতিবেদনের প্রথম কিস্তি আমাদেরসময়ডটকমের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বরেণ্য পার্লামেন্টারিয়ান ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সিরাজুল আলম খানের জবানবন্দিতে লেখা ‘আমি সিরাজুল আলম খান’ বইটি তাঁর মনগড়া এক কল্পকাহিনি ছাড়া আর কিছু নয়। এর বেশির ভাগ জুড়েই স্বাধীনতার ইতিহাস বা সত্যের কোনো ছায়া নেই। বইটি পাঠ করে তিনি সিরাজুল আলম খানকে টেলিফোন করে বলেছেন, ‘আপনার বইটি আমি সম্পূর্ণ পড়েছি। পাতায় পাতায় এত অসত্য তথ্য এসেছে যে আমি তার প্রতিবাদ করব।’ সিরাজুল আলম খান তাঁর টেলিফোনের জবাবে কিছু বলেননি এবং তিনিও আর কথা না বাড়িয়ে রেখে দেন।
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। মুজিববাহিনীর অন্যতম প্রধান তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মুজিববাহিনীর আমরা চারজন প্রধান ছিলাম। তার মধ্যে শেখ ফজলুল হক মণি, যিনি ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে ঘাতকের হাতে সস্ত্রীক নিহত হয়েছেন। আর আবদুর রাজ্জাক ইন্তেকাল করেছেন।
অন্যজন সিরাজুল আলম খান ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে ব্যর্থ ও দেউলিয়া হয়ে তাঁর কর্মকান্ড, বক্তব্য ও লেখালেখির মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে বিতর্কিত রহস্যপুরুষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। আমি অবাক হয়ে তাঁর জবানবন্দিতে লেখা বইটি পড়তে পড়তে বিস্মিত হয়েছি যে, কীভাবে একজন মানুষ একটি ইতিহাসকে এভাবে বিকৃত করতে পারেন! কোন রহস্যজনক কারণে এত বছর পর হঠাৎ করে এই মিথ্যাচারের দলিল উপস্থাপন করেছেন? সেই রহস্য একদিন উদ্ঘাটিত হবে এবং এ কে খন্দকারের মতো ইতিহাস বিকৃতি ও মিথ্যাচার করার ভুল স্বীকার করে জাতির কাছে তাকেও ক্ষমা চাইতে হবে।
সিরাজুল আলম খান তাঁর বক্তব্যে আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদকে নিয়ে ’৬২ সালে গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’ বা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। সেটির সঙ্গে ইতিহাসের কোনো যোগসূত্র বা সত্যতা নেই বলে দাবি করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তখন আমাদের নেতা ছিলেন শেখ ফজলুল হক মণি। তিনি এর সম্পর্কে কিছু জানতেন না। তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বকালে কাজী আরেফ আহমেদ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। অথচ তিনিও জানেন না। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ ধরনের