প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

দিনভর বিক্ষোভ শেষে একদিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত ছাত্রদলের

শিমুল মাহমুদ ও আসিফ কাজল : ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে বয়সসীমা তুলে দেওয়া ও নিয়মিত কমিটির দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ শেষে একদিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা। গত ৬ জুন ছাত্রদলের ওই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। সে সময় দলের রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী শর্তও ঠিক করে দেওয়া হয়। রিজভীর স্বাক্ষরিত এসব শর্তের প্রতিবাদেই শুরু এ বিক্ষোভ।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে মেয়াদোত্তীর্ণ নেতারা। বেলা ১১টার দিকে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে এক পক্ষ কার্যালয়ের নিচতলায় অনশন বসে। অন্য একটি পক্ষ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয় এবং মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে অবরুদ্ধ হয়ে দিন কাটাতে হয় শয্যাশায়ী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দুইজন অফিস কর্মী এবং চিকিৎসক।

এর আগে বিক্ষোভ চলাকালে বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রশিক্ষণ বিষয় সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন।

বিএনপির এই চার নেতা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেন সাবেক ছাত্রনেতারা। কমিটির বিষয়ে নিয়ে তর্ক-বিতর্কেও একপর্যায়ে ধাক্কা-ধাক্কি শুরু হলে কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে আসেন চার নেতা। পরবর্তীতে সংকট নিরসনে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারি বাবু, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান ও আকরামুল হাসান প্রমুখ। বৈঠক শেষে রাত ১০ টার পর বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের দাবি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন সাবেক ছাত্র নেতারা।

বিকেল ৪ টায় নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আনা হয় একটি অ্যাম্বুলেন্স। মূল ফটকের তালা খুলে ছাত্রদলের বিক্ষুদ্ধরা ভেতরে প্রবেশ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেন। বিএনপির দপ্তরের কর্মী দলিল উদ্দিনকে সহ আরও কয়েকজন অফিস কর্মীকে ভবন থেকে বের করে দেন ছাত্রদলের কর্মীরা। এ সময় ভেতরে থাকা ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন বিক্ষুব্ধদের রোষের শিকার হন।

সর্বশেষ নয়নকে বের করা আনা হয়। মূল গেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা নয়নকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে ছাত্রদলেরই কয়েকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে অটোরিকশা চালিত একটি সিএনজিতে তুলে দেন।

জানতে চাইলে বিক্ষোভকারীরা জানান, রিজভী ভাইয়ের জন্য এই ব্যবস্থা। ছাত্রদলের অভিভাবক হিসেবে কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কেবল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অথবা দলের সাংগঠনিক প্রধান হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। কিন্তু তাদের দুইজনের স্বাক্ষর এবং সম্মতির বিষয়টি উল্লেখ করা ছাড়াই মধ্যরাতে নিজের স্বাক্ষরে প্রেস রিলিজ পাঠিয়ে কমিটি বিলুপ্তি করেছেন রুহুল কবির রিজভী যা বিধিসম্মত নয়। এসময় রিজভীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় আন্দোলনকারীরা। নয়াপল্টন কার্যালয়ে রিজভীর সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা।

সন্ধ্যায় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মির্জা আব্বাস অসুস্থ রিজভীকে দেখতে আসলে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। এ সময় গয়েশ্বর রায় বলেন, নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, ছাত্রদলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ, চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন তিনি কার্যালয়েই থাকবেন নাকি হাসপাতালে যাবেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, বিষয়টা সাংবাদিকরা যেভাবে সিরিয়াসলি নিয়েছে বা উপস্থাপন করেছে আসলে বিষয়টি সেরকম সিরিয়াস না। এটা পোলা-পানের কাজ-কর্ম, মান-অভিমানের বিষয়। কয়েকদিন আগে ঈদ গেছে। মান-অভিমান হয়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে। কারো কিছু করতে হবে না। কোনও সালিশ, আলোচনা কিছুই করতে হবে না। ওরা রাগ করেছে, সব ঠিক হয়ে যাবে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। হঠাৎ করে ঈদের আগে এই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা এতে আহত বোধ করছি। ঢাকার ১২টা ইউনিট ও আমাদের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে একটা আবেদননামা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেকে রহমানের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে তিনটা বিষয়ের উল্লেখ ছিল। একটা দাবি ছিল বয়সের সুনির্দিষ্ট সীমা রেখা থাকবে না। ধারাবাহিক কমিটি হতে হবে এবং একটা কমিটি হবে ছয় মাসের, আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। পরে একবছরের জন্য কমিটি দিতে হবে, যাতে ছাত্রদলকে সুন্দর গোছানো সংগঠনের চেহারায় নিয়ে আসা যায়।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলে দাবি করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন অফিসের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিক্ষোভ থাকতেই পারে, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। তাদের দাবি থাকতে পারে, যৌক্তিকতাও থাকতে পারে। এটা সমন্বয় করে বাস্তবায়নের দিকে আমরা যাচ্ছি। তাদের বেদনা-ক্ষোভ আমরা শুনব। সকলের সাথে আলোচনা করে আমরা কাজ করব।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, যারা আজকে এখানে বিক্ষোভ করছেন, তারা আমাদের ছোট ভাই। ওদের যদি সুন্দরভাবে মূল্যায়ন করতে পারে বিএনপি, অথবা তাদের সাথে যদি আলাপ-আলোচনা করতে পারি, তাহলে সমাধানে আমরা আসতে পারব। আমরা সেই কাজটি অবশ্যই করব। অবশ্যই তাদের সাথে ধীরে ধীরে আলোচনা করব।

বয়সসীমা না রাখার যে দাবি বিক্ষুব্ধরা করেছে- সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ্যানি বলেন, এটা তো আমার একার বিবেচনার বিষয় নয়, এটা তাদের সাথে আলোচনা করেই সমাধান ও সমন্বয় হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত