প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাকসু নির্বাচন হচ্ছে না!

ডেস্ক রিপোর্ট  : দীর্ঘ ২৯ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও আপাতত চাকসু নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। চাকসু নির্বাচনের জন্য কর্তৃপক্ষের গঠিত পর্যালোচনা কমিটির আড়াই মাসেও প্রতিবেদন জমা না দেয়া, উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়া, নির্বাচনের দৃশ্যমান কোনও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এমনটা ধারণা করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অব্যাহত দাবির মুখে ২০ মার্চ হঠাৎ চাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এ লক্ষ্যে পরদিন দুপুরে চাকসু নির্বাচন নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন শফিউল আলমকে প্রধান করে চাকসু ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটিকে সময়সীমা বেধে না দিলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু কমিটি গঠনের তিন মাস হতে চললেও এখনও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি তারা।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ১৪ জুন। ফলে উপাচার্যের মেয়াদকালে চাকসু নির্বাচন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, চাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের সদিচ্ছা ছিল না। নির্বাচনের ঘোষণা ও নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি গঠন দুইটাই ছিল আইওয়াশ। নতুন উপাচার্য হিসেবে যিনি নিয়োগ পাবেন তিনি যদি দ্বায়িত্ব নেয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যেই চাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ না নেন, তাহলে ফের আন্দোলনে নামবেন তারা।

শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি এনামুল হক ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো উত্থাপনের জন্য ছাত্র সংসদের কোনও বিকল্প নেই। দীর্ঘ ২৯ বছর পর চাকসু নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উল্লাসিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই মাসেও পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্ট না দেয়া ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ না হওয়ায় আমরা দুঃখ পেলেও আশাহত হইনি। আগামী ১৪ জুন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। আশা করি নতুন প্রশাসন খুব অল্প সময়ের মধ্যে চাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা নিবেন। অন্যথায় ছাত্রজনতা চাকসু দাবি নিয়ে ফের মাঠে নামবে।

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। তবে দুই মাসেও পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হওয়া, চাকসু নির্বাচনের তাগিদে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন সমূহের সাথে আলোচনার কোনরূপ প্রচেষ্টা না করা এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের কোনরূপ উদ্যোগ না নেয়া ইত্যাদি থেকে এটা সুস্পষ্টত যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব। আর সদিচ্ছার অভাব এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি চাকসু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায়। সুতরাং যতদিন না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে না, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ পরিহার করবে না ততদিন পর্যন্ত সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রাণের দাবি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ চাকসু নির্বাচন অধরাই রয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন চবি শাখার সভাপতি মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে পর্যালোচনা কমিটি গঠন আইওয়াশ মাত্র। আশা করব ভিসি পদে যিনি নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন তিনি অতিদ্রুত ছাত্র প্রতিনিধি নিয়ে একটা চমৎকার পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে গঠনতন্ত্র সংশোধনী, ভোটা তালিকা হালনাগাদসহ নির্বাচনের জন্য সহবস্থান তৈরি করে অতিদ্রুত চাকসু নির্বাচন দিয়ে ইতিহাসের কালজয়ী দায়িত্ব পালন করবেন।’

এ দিকে নীতিমালা প্রণয়নের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে চাকসু নীতিমালা পর্যালোচনার কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। আরও একমাস সময় লাগতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘দেখুন এবং অপেক্ষা করুন।’

ব্রেকিংনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত