প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানবতাবিরোধী অপরাধে বড় নেতাদের রায় দ্রুত কার্যকর হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে ধীরগতি

এস এম নূর মোহাম্মদ : বড় নেতাদের বিচার কার্যক্রম শেষে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন হলেও ধীর গতিতে চলছে অপেক্ষকৃত ছোট নেতাদের মামলা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় দিলেও আটকে আছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। আপিলের পর রিভিউতেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে তবেই সরকার তা কার্যকর করতে পারবে। তবে আপিল ও রিভিউ নিষ্পত্তি না হওয়ায় কার্যকর করা যাচ্ছে না একাত্তরের মানবতাবিরোধী এসব অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বিচারপ্রার্থীদের। আর দ্রুত এসব অপরাধীর রায় বাস্তবায়ন চান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা।

নিয়ম অনুয়ায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে আপিলের ওপর দ্রুত শুনানির দিন ধার্য করতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর ওই আদালত তারিখ নির্ধারণ করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। তবে দীর্ঘ সময়েও আপিল শুনানি না হওয়ার বিষয়ে একাধিকবার সাংবাদিকরা জানতে চান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে। আর বরাবরই তিনি বলেছেন, আপিল শুনানি শুরু করার চেষ্টা করছি। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত বলেন, দীর্ঘ সময়ে আপিল শুনানি না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। আশা করি জুনে আপিল শুনানি শুরু হলে পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোও শেষ হবে। দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ হলে উভয়পক্ষই মনে করে তারা বিচার পেয়েছে। আর শুনানি বিলম্বিত হওয়ার কারণ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ভাল বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আপিল বিভাগে কেবল ৬টি মামলায় রিভিউ নিষ্পত্তি হয়ে মৃত্যুদণ্ড- কার্যকর হয়েছে। এরপর থেকে আপিল নিষ্পত্তির গতি খুবই শ্লথ। আর এমনটি কেন সেটা অ্যাটর্নি জেনারেল ভাল বলতে পারবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যলয় আর একটু উদ্যোগী হয়ে কাজ করলে নিশ্চয় দ্রত মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলে মনে করেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ২০ মামলায় ২৬ জন আসামির আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। এসবের মধ্যে আসামিদের পক্ষে ২৫ টি আর সরকারপক্ষে আছে একটি।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড ণ্প্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল আবেদন শুনানির জন্য আগামী ১৮ জুন দিন ধার্য রয়েছে। আর জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের আপিল কার্যতালিকায় থাকলেও শুনানির জন্য তারিখ ধার্য হয়নি।

আরো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে মোবারক হোসেন, মাহিদুর রহমান, ফোরকান মল্লিক, সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন, আতাউর রহমান, ওবায়দুল হক তাহের, শামসুদ্দিন আহম্মেদ, মহিবুর রহমান বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া, মো. শামসুল হক ওরফে বদরভাই, এস এম ইউসুফ আলী, সাখাওয়াত হোসেন, মো.মোসলেম প্রধান, মো.আব্দুল লতিফ, ইউনুছ আহমেদ, মো.আমির আহম্মেদ ওরফে আমির আলী, মো.জয়নুল আবেদীন, মো.আব্দুল কুদ্দুস, মো.রিয়াজ উদ্দিন ফকির, মো.আকমল আলী তালুকদার এবং মো.ইসহাক শিকদারের আপিল আবেদন। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজার (আমৃত্যু কারাদণ্ড) বিরুদ্ধে আপিল করেছে সরকারপক্ষ।

এর আগে ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় হওয়া ৩৭টি মামলার ৮৭ জন আসামির মধ্যে ৬জনের মৃত্যুদণ্ড- কার্যকর করা হয়। আর জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর আপিল নিষ্পত্তি করে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড- করা হয়। এছাড়া আপিল বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক গোলাম আযম ও আব্দুল আলীম।

বড় নেতাদের মধ্যে কাদের মোল্লা ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ আপিল করেন। আর সরকার পক্ষ আপিল করে ৩ মার্চ। একই বছররে ১৭ সেপ্টেম্বর আপিলটি নিষ্পত্তি হয়। এরপর ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কামারুজ্জামানকে ২০১৩ সালের ৯ মে মৃত্যুদণ্ড- দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর আপিল করলে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর রায় বহাল রাখা হয়। রিভিউ নিষ্পত্তি শেষে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিলই মৃত্যুদণ্ড- কার্যকর করা হয়।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড- দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আর একই বছরের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। পরে আপিল করলে শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং ১৬ জুন মুজাহিদের দণ্ড- বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আর একই বছরের ১৮ নভেম্বর দুজনের রিভিউ আবেদন খারিজ করা হয়।

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ২৩ নভেম্বর আপিল করেন নিজামী। ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি দণ্ড- বহাল রাখা হয়। এরপর ৫ মে রিভিউ আবেদন খারিজ হলে ১০ মে দণ্ড- কার্যকর করা হয় এই জামায়াত নেতার। মীর কাসেম আলীকে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড- প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ৩০ নভেম্বর আপিল করলে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ দণ্ড- বহাল রাখা হয়। এরপর ৩১ আগস্ট রিভিউ খারিজ হলে ৩ সেপ্টেম্বরই মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ড- কার্যকর করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত