প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিযোগ এলে ছাত্রলীগের ১৯ শূন্যপদের তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে

সমীরণ রায়: ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিবাহিত, চারকরিজীবী, বয়স উত্তীর্ণ, চাঁদাবাজ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, একাধিক মামলার আসামি রয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন পদবঞ্চিতরা। এরই প্রেক্ষিতে নবগঠিত কমিটির ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। লিখিত অভিযোগ এলে এ তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার একজন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের ১৯ জনের যে শূন্য পদ ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে এখনও কোনো দালিলিক প্রমাণাদি পাইনি। আর যারা অভিযোগ করেছেন, তারাও কোনো প্রমাণপত্র দিতে পারেননি। তাই আপাতত আর কোনো নতুন পদ শূন্য ঘোষণার সম্ভাবনা নেই।’

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন ছাত্রলীগের একাংশ। তাদের অধিকাংশই পদবঞ্চিত। কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেয়াসহ তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে অনড় রয়েছেন তারা। পদবঞ্চিতদের দাবি, বতর্মান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন ইস্যুতে টালবাহানা করছেন। গত ২৮ মে ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হলেও তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘শূন্যপদ ঘোষিত ১৯ জনসহ বাকিদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আরও কিছু নাম আমাদের হাতে রয়েছে। বিতর্কিত থাকলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। তাদের বাদ দেওয়া হবে। নাম না প্রকাশ করার মাধ্যমে কানামাছি খেলার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সব নাম প্রকাশ করে শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে।’

‘খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে ছাত্রলীগের শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে। তিনি দেশের বাইরে ছিলেন বলেই একটু দেরি হয়েছে। আশা করি, খুব শিগগিরই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার নিরসন হবে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন। তার সম্মতিতে পদ শূন্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও পদগুলো পূরণ করা হবে।’

‘আগামী সোমবার দলীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা করেই এটির সুরাহা করা হবে। আর যারা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের সঙ্গে সভাপতি রেজাওনুল হক চৌধুরী শোভন ও আমি একাধিকবার কথা বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথা শুনতে নারাজ।’

গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, চাকরিজীবী, ছাত্রদলের নেতাকর্মী রয়েছেন বলে দাবি করে আন্দোলনে নামেন পদবঞ্চিত ও পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। পরে ১৯ মে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর গত ২৬ মে রাত ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেন তারা।
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত