প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্রলীগের বিতর্কিতরাই কি তবে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান করছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের মূল্যায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান করছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত একাংশ। তবে এই অবস্থানকারীদের নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক, তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।

গত ১৩মে, ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী, বিবাহিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিরোধীতাকারীর সন্তান, হত্যা মামলার আসামী, চাঁদাবাজ, শিবিরের সাথে জড়িত এমন ৯৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ব্যক্তিরা। তারা আরো জানিয়েছেন যে, পদপ্রাপ্তদের মধ্যে তাদের কাছে ১০৭ জন বিতর্কিত নেতার তালিকা আছে। এদের মধ্যে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ তাদের কাছে আছে। আর এদেরকে কমিটি থেকে বাদ দিতে এবং যোগ্যদের মূল্যায়ন করার দাবিতে গত ২৭মে থেকে এখন পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করছেন তারা। এমনকি ঈদুল ফিতরও তারা এখানেই উদযাপন করেছেন।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। তারা নিজেরাও বিতর্কিত। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অবস্থানকারীদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ সম্পাদক আল মামুন, এসএম মামুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান তারা বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে মারামারিতে অংশগ্রহণ করেছেন, ছাত্রলীগের মান ক্ষুণ্ন করতে তারাই দায়ী বলে অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন। আল আমিন রহমানের বিরুদ্ধে নারী নিপীড়নেরও প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া, গত বছরের ৩০ জুন এবং ২ জুলাইয়ে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন মিডিয়ায় ভিডিও ফুটেজ এবং পত্রপত্রিকায় ছবি রয়েছে।

বিএম লিপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং বিবাহিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত কমিটিতে সমাজসেবা সম্পাদকে একজন পূর্ণ সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও রানা হামিদকে কমিটিতে রাখতে জোর করে তাকে পূর্ণ সম্পাদক করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে হজ্জে পাঠানোর কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজেরা ভাগাভাগি করার অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগের গত কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু)’র সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের বিরুদ্ধে সুযোগসন্ধানীর অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্বীয়স্বার্থে দলকে ব্যবহার করেন বলে তথ্য রয়েছে।

অন্যদিকে কবি জসিম উদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খানের বিরুদ্ধে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থের জন্য ছাত্রলীগ সভাপতিকে নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ রয়েছে, এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদেরও ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা পদবঞ্চিত এবং প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে তাদের মধ্যে হাতে গোনা দু একজন ছাড়া বাকি সবার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের যে ঐতিহ্য রয়েছে তা বিরোধী নানা কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। পদবঞ্চিতদের কমিটিতে পদ না পাওয়ার পিছনে এগুলো অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী।

তবে এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সম্পাদনা: সুতীর্থ বড়াল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত