প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমরা ডাকসুতে কাজ করতে এসেছি অন্যকোনো ধান্ধায় না’

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ঢাবি প্রতিনিধি: সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র ২০১৯-২০ বাার্ষিক বাজেট ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার পাশ হয়েছে। ডাকসুর এজিএস এবং সদস্য (১৩ জন) ছাড়া বাকি ১১ জনকে দেয়া হবে এ বাজেটের টাকা। তবে এ স্বল্প টাকায় তাদের যে কাজগুলো করতে হবে তা করা সম্ভবপর নয় বলে জানান ডাকসু প্রতিনিধিরা। বেশিরভাগ কাজই তাদের করতে হবে স্পন্সর সংগ্রহ করার মাধ্যমে।

১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বাজেটে ভিপি ও জিএস এর খাতে কন্টিনজেন্সির জন্য ৫লাখ ৫লাখ করে মোট ১০ লাখ, অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য ৩০ লাখ ও সাধারণ অনুষ্ঠানের জন্য ১৭ লাখ (যা জিএস এর স্বাক্ষরে ব্যয় হবে), স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের খাতে ১০ লাখ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদকের খাতে ১৫ লাখ, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের খাতে ১০ লাখ, আন্তর্জাতিক সম্পাদকের খাতে ১৫ লাখ, সাহিত্য সম্পাদকের খাতে ১৫ লাখ, সংস্কৃতি সম্পাদকের খাতে ১৫ লাখ, ক্রীড়া সম্পাদকের খাতে ২০ লাখ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদকের খাতে ১৫ লাখ, সমাজসেবা সম্পাদকের খাতে ১৩ লাখ ও অফিস ম্যানেজমেন্টের জন্য ৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৯০-৯১ সনের ডাকসুর বাজেট ছিল মোট ২৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। তবে ২৮ বছর আগের এ ডাকসুতে বাজেটের খাত ছিল সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কন্টিনজেন্সি, অভিষেক, সাধারণ অনুষ্ঠান, ডাকসু মিলনায়তন, ছাত্রী মিলনায়তন, বিজ্ঞান মিলনায়তন, সমাজসেবা, সাহিত্য সামাজিক আপ্যায়ন, ক্রীড়া খাত ও পরিবহন খাত। বর্তমানে তিনটি খাত বেশি এবং ২৮বছরের পার্থক্য ও টাকার মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি তো রয়েছেই এর মধ্যে।

ডাকসুর সদস্য মো. মাহমুদুল হাসান বলেন,‘সত্যি কথা বলতে আমরা ডাকসুতে কাজ করতে এসেছি, টাকা পাওয়ার ধান্ধায় নয়। বরং ডাকসুর সদস্য হয়ে আমার প্রতিমাসে ৬-৭ হাজার টাকা টিউশনির টাকা থেকে চায়ের বিল দিতে হচ্ছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্ট করি কিন্তু তারা সেটি বুঝতে চায় না। আমাদের তখন অনেক কষ্ট লাগে। ডাকসুতে আমাদের সদস্যদের জন্য কোনো কক্ষ এবং বাজেটও নেই অন্যদের কক্ষ ব্যবহার করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন,‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধারণার মত আমারও এক রিলেটিভ ধারণা করে আমাকে ফোন দিয়ে বলে টাকা ধার দে জমি কিনবো। অথচ আমাদের যে কোনো টাকা নেই বরং টিউশনের ঘাম ঝরানো টাকা পকেট থেকে ব্যয় হচ্ছে তা কেউ বুঝতে চায় না। যারা বাজেটও বা পেয়েছে তাদের উপর যে কাজগুলো বর্তানো হয়েছে তা আদৌ স্পন্সর সংগ্রহ করা ছাড়া সম্ভব নয়। আমরা যারা ডাকসুতে প্রতিনিধিত্ব করছি বিশ্বাস করুন তারা শুধুমাত্র ডাকসুতে কাজ করার উদ্দেশে এসেছি অন্যকোনো উদ্দেশে নয়। আমি সাংবাদিক এবং আমার শিক্ষার্থী ভাইবোনদের বলব পারলে আমাদের কাজে সহযোগিতা করুন, বাজে সমালোচনা নয়।’

তিনি বিগত ডাকসুর বাজেটের প্রতিটি খাতের টাকা কোথায় কোথায় ব্যয় হয়েছে তা দেখিয়ে বলেন, ‘আমাদেরকেও এভাবে প্রত্যেকটি বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসেব দিয়ে যেতে হবে। অনেকে বলেন প্রতিটি কাগজে কেন জিএসের স্বাক্ষর? ভিপির কেন থাকে না? তারা জানেনই না ডাকসুতে ভিপি শুধুমাত্র সম্মানিত এই পদটি গ্রহণ করেন এবং সভাপতির অনুপস্থিতে সভা পরিচালনা করার অধিকার রাখেন। বাকি প্রায় সব কাজ জিএসের করতে হয়, শুধু তারই স্বাক্ষর ব্যবহৃত হয়।’

২০১৯-২০ বার্ষিক বাজেটে সংস্কৃতি সম্পাদকের ১৫ লাখ টাকার মধ্যে জুনে টিএসসি ফেস্ট ১লাখ ৫০ হাজার টাকায়, জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২লাখ টাকায়, আগস্টে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ৮০ হাজার টাকায় ও বঙ্গবন্ধ’কে নিয়ে নির্মিত নাটক মঞ্চায়ন ৫০ হাজার টাকায়, সেপ্টেম্বরে নজরুল উৎসব ২০ হাজার টাকায়, অক্টোবরে নবান্ন উৎসব ১লাখ টাকায়, নভেম্বরে সাংস্কৃতিক সপ্তাহ ৩লাখ টাকায়, ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী দিবসে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান ২ লাখ টাকায়, জানুয়ারিতে কনসার্ট ফর ফ্রেশার্স ২লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং বছরের যেকোনো সময়ে আন্তঃহল সাংস্কৃতিক উৎসব ১ লাখ টাকায় এবং চারুকলা ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ৫০ হাজার টাকায় করতে হবে।

সম্ভাব্য ব্যয়সহ সাহিত্য সম্পাদকের কাজের মধ্যে রয়েছে ডাকসু প্রকাশনা(২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়): বার্ষিকী(ফেব্রুয়ারি), ত্রৈ মাসিক পত্রিকা(মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর, ডিসেম্বর ৩ হাজার কপি), ষন্মাসিক পত্রিকা(জুলাই, জানুয়ারি ৪হাজার কপি), বিশেষ দিবস পত্রিকা(একুশে সংকলন, নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা, বিজয় দিবস, শোক দিবস,স্বাধীনতা দিবস, আদিবাসী সংকলন ৫ হাজার কপি), বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা। বিতর্ক(৫ লাখ ৭০ হাজার টাকায়): বার্ষিক বিতর্ক কর্মশালা, আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণমূলক ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু স্মারক আন্তর্জাতিক ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতা (বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে)। বারো মাসে বারোটি পাঠচক্র ও বিশেষ সেমিনার করতে হবে ১লাখ ১৫ হাজার টাকায়, নিয়মিত সাহিত্য মঞ্চ ও সাহিত্য আড্ডা ৭৫ হাজার টাকায়, সাহিত্য রচনা মঞ্চ কর্মশালা ৫০ হাজার টাকায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সপ্তাহ আয়োজন ১লাখ ৫০ হাজার টাকায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব গ্রন্থমেলা ৫০ হাজার টাকায়, ভাষা উৎসব ১ লাখ টাকায়, আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২লাখ টাকায়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন ২ লাখ টাকায়, ডাকসু সাহিত্য কর্ণার/বুক ব্যাংক ও ডিজিটাল সাহিত্য আর্কাইভ ১লাখ টাকায়, ডাকসু সাহিত্য পুরস্কার ৫০ হাজার টাকায়, সাহিত্য গবেষণা ও সাহিত্য বৃত্তি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, বিবিধ ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা সব মিলে ২১ লাখ টাকার উপরে কাজ করতে হবে। সাহিত্য সম্পাদক বাজেট পেয়েছেন ১৫ লাখ টাকার। তার মানে বাকি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার স্পন্সর সংগ্রহ করতে হবে। সম্ভাব্য ব্যয় যা ধরা হয়েছে তার চেয়েও বেশি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এভাবে দেখা গেছে প্রত্যেক প্রতিনিধির কাজের ক্ষেত্রে বাজেটে ঘাটতি রয়েছে যা স্পন্সর বা অন্যকোনোভাবে সংগ্রহ করতে হবে।

ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক বি.এম লিপি বলেন,‘আমরা আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করব ইনশাআল্লাহ। ডাকসু থেকে আমরা যে বাজেট পেয়েছি তাতে দশ ভাগের এক ভাগ কাজও কম্পিলিট হবে না। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্পন্সর দিতে আগ্রহী আছেন। আশা করি তেমন সমস্যা হবে না, শুধুমাত্র আমার শিক্ষার্থী ভাইবোনদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ঈদের ছুটি শেষ হলেই আমরা কাজ শুরু করব।’

তিনি আরো জানান, ‘ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মানোন্নয়নের বিষয়ে উপাচার্য স্যারের সাথে কথা হয়েছে, তিনি সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শীঘ্রই কাজ শুরু করব।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত