প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০ দেশের ৫ হাজার বিদেশি অপরাধী ঢাকায় !

নিউজ ডেস্ক : বিদেশি অপরাধীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে যেন ঢাকা। রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা কূটনৈতিক এলাকা থেকে শুরু করে উত্তরা পর্যন্ত তাদের বিচরণ ক্ষেত্র। বৈধ কোনও কাগজপত্র ছাড়াই তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বসবাস করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

খুন থেকে শুরু করে অস্ত্র, মাদক ও জাল ডলার ব্যবসা, জঙ্গি তৎপরতা, আদম পাচার, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, মানব পাচারসহ নানা করে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি তাদের অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। জনমনেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

গত ১ জুন (শনিবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে জালিয়াতি করে অর্থ তুলে নেয়ার সময় ইউক্রেনের এক নাগরিককে আটক করেন বুথের নিরাপত্তাকর্মী। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ ইউক্রেনীয়কে গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন- ভ্যালেনটাইন (পাসপোর্ট- ইওয়াই ০৫১৫৬২), ওলেগ (পাসপোর্ট- ইএক্স ০৮৯৯৬৩), ডেনিস (পাসপোর্ট- এফএল ০১৯৮৩৪) নাজেরি (পাসপোর্ট- এফটি ৫০০৫০১), সারগি (পাসপোর্ট- এফএইচ ৪২৪৩৯৪) ও ভোলোবিহাইন (পাসপোর্ট- ৩৭৯৯৮৩)।

ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশে আসা এমনই এক ইউক্রেনীয় জালিয়াত চক্রকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। জালিয়াতি চক্রের সদস্য ইউক্রেনের ৬ নাগরিককে আদালতে সোপর্দ করার পর তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলছেন, ‘‘২০ দেশের কমপক্ষে ৫ সহস্রাধিক নাগরিক রাজধানী ঢাকায় ভয়ঙ্কর সব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে শতাধিক রয়েছেন যারা নিজ দেশের দাগী অপরাধী। নাম-ঠিকানা পাল্টে বাংলাদেশে আত্মগোপনে থেকে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। দিনে দিনে তাদের অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে।’’

এমন পরিস্থিতিতে অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছর ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি ও জাল ডলার এবং জালিয়াতির অপরাধে জড়িত কয়েকজন বিদেশি নাগরিক ধরতে রাজধানীর রামপুরা, গুলশান ও উত্তরার ১৪৭টি বাড়িতে একযোগে অভিযান চালানো হয়। কাগজপত্র ছাড়া অপরাধে জড়িত এমন ৩১ জনকে আটক করে পুলিশ। তারা সবাই আফ্রিকান।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়কৃষ্ণপদ রায় বলেন, বিদেশিদের বাসা ভাড়া দেয়ার আগে বাড়িওয়ালাদের সতর্ক থাকতে হবে। বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই তাদের ভাড়া দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, গ্রেফতার ৩১ বিদেশি নাগরিক কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। শিক্ষার্থী ও ভ্রমণ ভিসায় তারা বাংলাদেশে এসেছেন। তারা সবাই আফ্রিকান নাগরিক। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা খুন, প্রতারণা, মাদক ব্যবসা, জাল টাকা তৈরি, ভিওআইপি ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন নাইজেরিয়ার ১২, উগান্ডার ৫, ক্যামেরুনের ৪, গাম্বিয়ার ৩, আইভোরি কোস্টের ২, সেনেগালের ১, কেনিয়ার ১, মালির ১, মোজাম্বিকের ১ ও টোগোর ১ জন।

রামপুরার বনশ্রী থেকে ১১, গুলশান থেকে ৪ ও উত্তরা থেকে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিসি ডিবি (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘‘আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি কিছু বিদেশি ছাত্রও ভ্রমণ ভিসায় এ দেশে আসেন। উত্তরা ও গুলশানসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তারা বাসা ভাড়া করেন। এক সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তারা এ দেশে অবৈধভাবে থাকতে শুরু করেন, যা বড় ধরনের অপরাধ। এ ছাড়া তারা অনেক সময় মাদক ও জাল টাকা তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।’

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত বছর ৪ অক্টোবর অবৈধভাবে বসবাসকারী আলজেরীয় নাগরিক আবু ওবায়েদ কাদের সমকামিতায় ব্যর্থ হয়ে পানিতে চুবিয়ে উত্তরায় স্কুলছাত্র জুবায়ের আহমদকে হত্যা করেন। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর কাদের এই বর্ণনা দেন।

ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্যামেরুনের ৩ নাগরিক পেরেজ ইফরেইন, সেন কেরিন ন্যাটি ও মিকো স্যান্ডিও নাটালিকে সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা থেকে জাল ডলার ও ডলার তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করে ডিবি।

সেগুনবাগিচা থেকে বোমা তৈরির ম্যানুয়ালসহ গ্রেফতার করা হয় জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তান-এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তিন পাকিস্তানি মেহমুদ, উসমান ও ফকরুলকে।

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি জাল ডলার, ইউরো, রূপিসহ গুলশানের নিকেতন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক জিংগে ফিলিং সিফু, ক্যামেরুনের সামজেলা ক্রিসসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি।

একই বছরের ১১ জুন কারওয়ান বাজার হোটেল লা-ভিঞ্চি থেকে সোয়া ৩ কেজি কোকেনসহ জুয়ান পাবলো রেফায়েল নামে পেরুর এক নাগরিক এবং ৩ সেপ্টেম্বর উত্তরা থেকে মদসহ কামারা কাডে, কোনজি লোভেনিয়া এবং রবার্টো মিলি মনোনো নামে গিনি ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিককে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

২২ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে অবৈধ বিপুল ভিওআইপি সরঞ্জামসহ চীন ও তাইওয়ানের ৩৭ নাগরিককে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর আগে ১৮ এপ্রিল সাভারে একটি রফতানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পেরুর নাগরিক ব্রিট জে লুডাভিগসেন শাকাতা ও ভারতের স্যাম্পাত কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দৈনিক জাগরণ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত