প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষককে ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে নয়া কর্মকৌশল প্রণয়নের তাগিদ দিলেন নাঈমুল ইসলাম খান

রাশিদ রিয়াজমো. মাসুদ : কৃষকদের ধানের নায্য দাম নিশ্চিত করতে ও লোকসান পুষিয়ে নিতে ব্যবস্থাপনার মান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের প্রধান সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিবিসি টেলিভিশনের সংবাদ সম্প্রসারণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, উৎপাদন পর্বে কৃষক যেন তার মূল্যের অন্তত ৫০ ভাগ পায়, এটি নিশ্চিত করতে একটি মেকানিজম উদ্ভাবন জরুরি। এজন্যে জরুরি আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন। ডিবিসির এই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে অংশ নেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি।

এবারের ঈদের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন নাসিমা খান মন্টি। তিনি বলেন, এবছর অনলাইন কেনা-কাটা বড় একটা ভূমিকা রেখেছে। আমি একটা রিপোর্ট করেছিলাম, আনলাইনে এতো বেচা-কেনা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের দোকান এবং শপিংমলগুলোতে এর কোনো প্রভাব পরেছে কিনা। দেখা গেছে, অনলাইনে মানুষ পণ্য কিনছে, বাজারে গিয়েও কিনছে। তাছাড়া অনলাইনে এখন কাঁচা বাজারের পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে শপিং মলগুলোতে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ছে না। আমাদের অর্থনীতি এখন অনেক ভালো আছে, উল্লেখ করেন আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রের ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করতে পারে না বলে কৃষক পর্যায়ে ধান কিনতে দেরি হয়ে যায়। ঋণ পরিশোধ করার জন্য কৃষকদের তাৎক্ষণিক ও সরাসরি সহায়তা করার একটি প্রক্রিয়া বের করা উচিত। সরকার চাইলে কৃষকদের এ্যাকাউন্টে বা মোবাইল এ্যাকাউন্টে মানবিক প্রত্যাশা অনুযায়ী সরাসরি সহায়তা পাঠাতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে ছলছাতুরি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে সহায়তা দেয়া সম্ভব হয় না বলে উল্লেখ করে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, এজন্যে রাষ্ট্রের বড় একটা উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

আমাদের নতুন সময়ের প্রধান সম্পাদক আরো বলেন, বাংলাদেশ সত্যিই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধন করছে। সর্বশেষ ভারতের ত্রৈমাসিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। গত এক বছরের গড় হয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ আর সেক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু ৮ দশমিক তিন শতাংশ। আমরা যদি প্রবৃদ্ধির এ গতিটা বজায় রাখতে পারি, তাহলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পণার মধ্যে সংখ্যাটা দ্বিগুন হয়ে যাবে।

তিনি বলেন কিছু দিন পূর্বেও আমরা বলছিলাম, বাংলাদেশ  হবে বড় একটা সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুর হচ্ছে একটা শহর, যাকে বলি সিটিস্টেট। আর বাংলাদেশ হবে একটা স্টেট সিঙ্গাপুর এবং প্রধানমন্ত্রী জাপানে গিয়ে বলেছিলেন বাংলাদেশ হবে জাপান। সত্যিকার অর্থে আমরা কিন্তু একটা অসাধারণ উন্নতির পথে। সুতরাং এখানে আশা করাটা খুবই ন্যায্য।

নাঈমুল ইসলাম খান আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কাগজে-কলমে যতটুকু প্রকাশ্যমান তার চেয়েও বেশি কিন্তু ইনফরমাল আছে। যেটাকে আমরা কালো অর্থনীতিও বলে থাকি। তাছাড়া আমাদের দেশে বৈষম্য একটা বাস্তবতা। একটা গোষ্ঠী হতদরিদ্র কৃষক ও শ্রমিক এবং তারাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত। তারা কষ্টে দিনযাপন করছে। আমাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের গুণগত পরিবর্তন না হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না।

তিনি এও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের মাঝে অনেক বেশী কৃষকবান্ধব চিন্তাভাবনা আছে। সুতরং তার কাছ থেকে আমরা বেশি আশা করবো।

এ প্রসঙ্গে নাসিমা খান মন্টি বলেন, ধানের বাম্পার ফলন হওয়া সত্তে¡ও বলা হচ্ছে, আমাদের উৎপাদিত ধানের মান রপ্তানিযোগ্য নয়, রিপোর্ট আসছে। ধান কাটার সময় কেনো, এ পরিকল্পনা অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিলো। এটার নির্দিষ্ট একটা সময় আছে। এমনতো না এটা হঠাৎ করে এসে গেলো। কাজেই এখানেও পরিকল্পনার অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব রয়েছে।  সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত